যুদ্ধকবলিত সুদান থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশিদের প্রথম দল। গতকাল সোমবার সকালে প্রথম পর্বে ১৩৬ জন বাংলাদেশি ঢাকার হজরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গল বা বুধবার সুদান থেকে বাংলাদেশিদের পরবর্তী ব্যাচ দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
ঢাকায় পৌঁছানো প্রত্যেক বাংলাদেশিকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে নগদ ৩ হাজার টাকা ও আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থার (আইওএম) পক্ষ থেকে ২ হাজার টাকা প্রদানের পাশাপাশি খাবার সরবরাহ করা হয়। বিমানবন্দরেই সুদান ফেরত বাংলাদেশিরা তাদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ইস্যুতে হতাশা প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান আহমদ তাদের অভয় দিয়ে বলেন, ‘চিন্তা করবেন না। দেশকে আপনারা অনেক কিছু দিয়েছেন। আপনারা সুদানে সবকিছু হারিয়েছেন। আপনারা প্রত্যেকে খালি হাতে এসেছেন। আপনাদের পাশে থাকার জন্য এবং আপনাদের সাহায্য করতে আমরা এখানে এসেছি। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে সবাইকে যথাসাধ্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া আইওএম আপনাদের সহায়তা করবে। যাতে আপনারা চলতে পারেন। আপনাদের কিছু অসুবিধা আমরা লাঘবের চেষ্টা করব।’
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, সুদান থেকে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরত আনতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ২ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুদান ফেরত সব বাংলাদেশিকে পুনর্বাসনের জন্য ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে আমাদের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক আছে।
সুদানের থাকা আরও বাংলাদেশিদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আপনারা আশ্বস্ত হতে পারেন, অতিসত্ত্বর বাকিদেরও নিয়ে আসা হবে। তবে ফেরত আসা সবাইকে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে হবে। যাতে আমরা পরবর্তী সময়ে আপনাদের কল্যাণে কাজ করতে পারি। সুদানের পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব কর্মীদের আবার ফেরত পাঠানো হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক মো. শোয়াইব আহমাদ খান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিদ্দিকুর রহমান, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঞা, আইওএম বাংলাদেশের অফিসার ইনচার্জ নুসরাত ফাতেমা গাজ্জালি এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।