গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ফিরে পেতে জাহাঙ্গীর আলমের করা রিট আবেদন খারিজ হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ আবেদনটি সরাসরি খারিজের এ আদেশ দেয়।
গত ৩০ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত জাহাঙ্গীর আলম ঋণখেলাপি ছিলেনএ যুক্তিতে তার আবেদনটি আদালত খারিজ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
জাহাঙ্গীর আলমের আইনজীবীরা জানান, হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সেটি হবে কি না তা বাদী সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রার্থিতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ এবং তা পেতে গত রবিবার আইনজীবীদের মাধ্যমে এ আবেদনটি করেন জাহাঙ্গীর আলম।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৫ মে গাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে দলটি মেয়র পদে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজমত উল্লাকে বেছে নেয়। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে জাহাঙ্গীর আলম এবং তার মা জায়েদা খাতুন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে গত ৩০ এপ্রিল খেলাপি ঋণের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীর আপিল করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন তিনি।
জাহাঙ্গীরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও এম কে রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এম কে রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মনোনয়ন ফরম জমাদানের তারিখ পর্যন্ত তিনি ডিফল্ডার ছিলেনএ যুক্তিতে হাইকোর্ট আবেদনটি খারিজ করেছে। ফলে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। আমাদের কথা হলো তিনি (জাহাঙ্গীর) কোনো ঋণ নেননি। জামিনদার ছিলেন। তাই ডিফল্ডার হওয়ার প্রশ্ন আসছে না। এখন আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না তা বাদীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।’
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ওই সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিতর্কিত ও কটু মন্তব্য করতে শোনা যায়। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ওই বছরের ১৯ নভেম্বর জাহাঙ্গীরকে মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করে আওয়ামী লীগ। এর কয়েক দিন পর অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের দলীয় পদে বহিষ্কারাদেশ থেকে মুক্তি পান তিনি। বরখাস্তের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ১৪ আগস্ট রিট আবেদন করেন জাহাঙ্গীর আলম। আগামী ১৪ মে এ বিষয়ে রায়ের জন্য ধার্য আছে।