বান্ধবীকে নিয়ে কটূক্তির জেরে জোড়া খুন

চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে জোড়া খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার (০৯ মে) পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা ও মহানগর ডিবি পুলিশ। এর মধ্যে ঘটনার মূলহোতা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। অপরদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাহাড়তলী থানা পুলিশ।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (০৮ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাহাড়তলী বিটাক এলাকায় সালিশ বৈঠকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করলে শিহাব ও মাসুম নামে দুই যুবক গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

সিএমপির পশ্চিম জোনের উপকমিশনার জসিম উদ্দিন জানান, খুন হওয়া যুবক শিহাব তার বান্ধবী নিয়ে সোমবার বিকালে স্টেডিয়াম এলাকায় গল্প করছিলেন। এ সময় রবিউল নামে একজন এসে শিহাবকে বলে, 'তোর যা চেহারা আর অবস্থা, এই মেয়ে তোর সঙ্গে যায় না'। এভাবে কটাক্ষ করায় শিহাব অপমানিত বোধ করেন। একপর্যায়ে রবিউলের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় শিহাবের। দুজনের ঝগড়া গড়ায় সালিশে। সেখানেই মাসুম ও শিহাবকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়।

পাহাড়তলী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় আমরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (বন্দর ও পশ্চিম জোন) মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, বান্ধবী নিয়ে আড্ডার সময় কটূক্তি করা নিয়ে দুজনের ঝগড়ার জেরে ইলিয়াসের অফিসে সোমবার সন্ধ্যায় সালিশ বসে। সালিশের একপর্যায়ে ইলিয়াস নির্দেশ দিয়ে বলেন 'শালাদের ধরে মার'। ইলিয়াসের নির্দেশ পেয়ে ফয়সাল, বাবু, বিপ্লব, কার্তিকসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন মিলে মাসুম এবং শিহাবকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

পুলিশ জানায়, আহত দুজন মারা গেছে শুনে ঘটনার মূলহোতা ইলিয়াছ চট্টগ্রাম ছেড়ে পালানোর সময় কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

পাহাড়তলী থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় আমরা মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।