এডিপির অর্ধেক বরাদ্দ পরিবহন-জ্বালানিতে

নতুন অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করেছে পরিকল্পনা কমিশন। আগামী (২০২৩-২৪)  অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। নতুন অর্থবছরের এডিপিতে বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও পরিবহন-যোগাযোগ খাতেই প্রায় অর্ধেক বরাদ্দ।

এডিপির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ দুই খাতে মোট এডিপির ৪৬ শতাংশ বরাদ্দ থাকছে। এর মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা পাচ্ছে, যা মোট এডিপির প্রায় ২৯ শতাংশ। আর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রায় ৪৪ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা বা প্রায় ১৭ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

এডিপিতে বরাদ্দ প্রস্তাবে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৫ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ২৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত এডিপি আজ অনুষ্ঠিত এনইসি সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রস্তাবিত নতুন এডিপির মধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার কোটি টাকা সরকারের রাজস্ব খাত থেকে ব্যয় করা হবে। আর ৯৪ হাজার কোটি টাকা দেবে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী। গত অর্থবছরের তুলনায় নতুন এডিপির আকার বেড়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছর এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

এবারের প্রস্তাবিত এডিপি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের জন্য মোট বরাদ্দের মধ্যে ৪৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা সরকারি ব্যয় এবং উন্নয়ন সহযোগীরা দেবে ৩১ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৬২ কোটি টাকা। এর পরেই রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৪৭৩ কোটি, সেতু বিভাগের জন্য ৯ হাজার ৬৪ কোটি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। বাকি টাকা প্রতিরক্ষা,কৃষি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন ৬ প্রকল্প। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ সাবওয়ের (এমআরটি-১) নির্মাণকাজ পুরোদমে শুরু হবে আগামী বছর। পাশাপাশি মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়নের কাজেও গতি আসবে। এছাড়া হযরত শাহজালান বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের মতো প্রকল্প এবং বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর মতো বড় ব্যয়ের প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজেও আরও গতি বাড়বে। 

এডিপিতে বেশি বরাদ্দ পাওয়ায় পরিবহন ও যোগাযোগ খাতের পরেই রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। এ খাতের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ৪৪ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ খাতের বেশিরভাগ ব্যয় হবে উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে। এ খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ পাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৩৩ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা। 

এর পরেই রয়েছে শিক্ষা খাত। শিক্ষা অবকাঠামো ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুন অর্থবছরের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। আগামী এডিপিতে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৯ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা।  যা মোট এডিপির ১১ দশমিক ৩৬ শতাংশ যা সবগুলো খাতের এডিপির মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ১৬ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলির জন্য ২৭ হাজার ৪৫ কোটি, স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার ২০৪ কোটি, কৃষিতে ১০ হাজার ৭০৭ কোটি, পরিবেশ , জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদের জন্য ৮ হাজার ৯৯৫ কোটি, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবায় ৫ হাজার ৩৬২ কোটি, জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষায় ৩ হাজার ৪৩৬ কোটি, বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিতে ৫ হাজার ৩২১ কোটি, ধর্ম, সংস্কৃতি ও বিনোদনে ২ হাজার ২৯০ কোটি, সাধারণ সরকারি সেবা খাতে ২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের সবচেয়ে কম বরাদ্দ পাচ্ছে প্রতিরক্ষা খাত। এ খাতের বরাদ্দ ১ হাজার ১০ কোটি টাকা।