ইমরান ৮ দিনের রিমান্ডে জরুরি অবস্থা বিভিন্ন শহরে

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর (এনএবি) হেফাজতে থাকবেন। গতকাল বুধবার ইসলামাবাদ পুলিশ লাইনসে স্থাপিত ‘অস্থায়ী’ আদালত এ আদেশ দেয়। আদালতে এনএবি তার ১৪ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল।

গতকাল পাকিস্তানের একটি আদালত তোষাখানা মামলায়ও ইমরান খানকে অভিযুক্ত করেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, গত বছর অক্টোবরে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন ইমরান খানকে বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রির জন্য দোষী সাব্যস্ত করে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত তাকে সরকারি কোনো পদে থাকার অযোগ্য ঘোষণা করে। এবার একই অভিযোগে আদালতও তাকে অভিযুক্ত করল।

এদিকে গত মঙ্গলবার ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই যে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়েছে গতকাল তা আরও বিস্তার লাভ করেছে। চলমান সহিংসতায় পেশোয়ারে চারজনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রদেশে আহত হয়েছে অন্তত ৪২ জন। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ইমরানের কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থককে। গতকাল ইসলামাবাদ হাইকোর্টের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পিটিআই মহাসচিব আসাদ উমরকেও। দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন জানাচ্ছে, ইমরানকে গ্রেপ্তারের পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানাতে উমর সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছিলেন। সে সময়ই তাকে গ্রেপ্তার করে কাস্টডিতে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রের সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ পুলিশ। পিটিআই-এর অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে উমরকে গ্রেপ্তারের ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, কয়েক ডজন পুলিশ তাকে ঘিরে ধরে টানতে টানতে পুলিশ ভ্যানের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বলছে, তারা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দাঙ্গাকারীদের ধরার চেষ্টা করছে।

ডন জানাচ্ছে, কেবল পাঞ্জাবেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক হাজার জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে। পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার আশঙ্কায় প্রদেশটির ফেডারেল সরকার সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে। যদিও বিবিসি উর্দু জানাচ্ছে, তীব্র সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে পাঞ্জাব এবং খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা নামানো হচ্ছে। জিও নিউজ অবশ্য ওই দুই প্রদেশ ছাড়াও রাজধানী ইসলামাবাদ ও বেলুচিস্তানেও সেনা মোতায়েনের খবর দিয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতির বরাতে বিবিসি বলছে, প্রাদেশিক সরকার এবং সামরিক কর্র্তৃপক্ষ আলোচনা করে ঠিক করবে কত সেনা সেখানে মোতায়েন করা হবে।

ইতিমধ্যে তিন প্রদেশে জরুরি আদেশ জারি করেছে স্থানীয় সরকার। এসব প্রদেশে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানজুড়ে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে সব কিছুর পরেও বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন ইমরানের সমর্থকরা। বিবিসি বলছে, পিটিআই পাকিস্তান ‘অচল’ করে দেওয়ার যে ডাক দিয়েছে বা বাস্তবায়নে সারা দেশ থেকে সমর্থকরা ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা করারও পরিকল্পনা করছেন।

গতকাল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইমরান সমর্থকদের জড়ো হতে বলা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখান থেকে তারা ইসলামাবাদ অভিমুখে যাত্রা করার কথা। পিটিআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেছেন, দলের শীর্ষ নেতারা ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে ইসলামাবাদে আছেন। ইমরানের গ্রেপ্তারকে বৈধতা দিয়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছে, সেটিকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ জানাবেন তারা। এক টুইটার পোস্টে কুরেশি লেখেন, এ অসাংবিধানিক আচরণের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করার জন্য আমরা পিটিআই কর্মী, সমর্থক ও পাকিস্তানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাব।

বিবিসি জানাচ্ছে, গতকাল বিশেষ আদালতে এনএবি ইমরানের ১৪ দিনের রিমান্ড চাইলে তার আইনজীবী রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, মামলাটি এনএবির আওতায় পড়ে না। এনএবি তদন্ত প্রতিবেদনও জমা দেয়নি। সবার জন্য উন্মুক্ত এমন আদালতে বিচারকাজটি পরিচালনার আরজি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতেক মানুষেরই ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।’

অবশ্য এনএবির আইনজীবী আদালতকে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় ইমরানকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করা হবে বলে ইমরানের আইনজীবীকে আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, এটি একটি দুর্নীতি মামলা, যা যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা প্রমাণ করেছে। তবে ইতিমধ্যে ইমরান আদালতকে বলেছেন, তাকে এনএবি দপ্তরে নেওয়ার পর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় নয়।