সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেওয়া, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের চলমান আন্দোলনকে সফল করতে আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে বিএনপিসহ সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আজ শনিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। এদিন ঘোষণা করা হবে ২০ মে সারা দেশের সব জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি।
গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে এসব কথা জানিয়েছেন বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা।
চূড়ান্ত যুগপৎ কর্মসূচি কবে ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামীকাল (আজ) শনিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চূড়ান্ত কর্মসূচির প্রথম কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর আগে আজ (শুক্রবার) রাতে সবাই মিলে আলোচনা করে নির্ধারণ করব। তবে কর্মসূচি মোটামুটি চূড়ান্ত। জেলা পর্যায় থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে।’
তিনি বলেন, ‘যুগপৎ আন্দোলন করলেও প্রত্যেকের আলাদা আলাদা কর্মসূচি থাকে। তার অংশ হিসেবে আজ (শুক্রবার) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছি ১৪ দফা দাবি আদায়ে। গণ অধিকার পরিষদ ১৯ মে তাদের কর্মসূচি পালন করবে। এ কর্মসূচি শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে হবে। বিএনপি আগামীকাল (আজ) নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করবে।’
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রথমে শর্ট টার্মের মধ্যে চূড়ান্ত আন্দোলনের চিন্তাভাবনা থাকলেও সেখান থেকে পিছিয়ে এসেছি আমরা। কারণ দ্রুততম সময়ে আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া সম্ভব হবে না। তাই আন্দোলন লং টার্মে হবে।’
বিএনপি গঠিত লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত মঙ্গলবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর জেলা পর্যায় থেকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা হয়েছে। তার অংশ হিসেবে আগামীকাল (শনিবার) নয়াপল্টনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা আসবে। আন্দোলন শুরু করে যৌথ ইশতেহার ঘোষণা করা হবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি এককভাবে থানা, উপজেলা, পৌরসভা ও জেলা বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করেছে। এরপর ধাপে ধাপে ঢাকায় গত ১০ ডিসেম্বর সমাবেশ করেছে। এবার সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে ঢাকায় ফিরবে। এভাবে একটি আন্দোলন শুরু করে তা শেষ পর্যায়ে নিতে আসতে দুই থেকে তিন মাস লাগে। আগামী ২০ মে থেকে শুরু করে চূড়ান্ত আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটতে পারে অক্টোবরের মধ্যে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চূড়ান্ত আন্দোলনের শেষ পর্যায় রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক হবে। তাই বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ঢাকাকেন্দ্রিক কমিটিগুলো দ্রুত গঠনের কাজ চলছে। বিশেষ করে আন্দোলনের প্রধান শক্তি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকার সব ইউনিটের কমিটি গঠনের কাজ দ্রুত শেষ করা হবে।’
গণফোরামের একাংশের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সমমনাদের যৌথ ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে। শিগগিরই তা জাতির সামনে তুলে ধরা হবে। এর আগে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের চূড়ান্ত ধাপের কর্মসূচি শুরু হবে। এবার আন্দোলন শুরু করে সে আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।’
বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতারা বলছেন, গত বছর ৩০ ডিসেম্বর থেকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে। প্রথম ধাপে সে আন্দোলন চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলে। রমজান ও ঈদের কারণে সে আন্দোলন শিথিল করা হয়। এখন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ইতিমধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে বিএনপি। বৈঠকে রূপরেখা ও যুগপৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করতেই গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, ১২ দলীয় সমমনা জোট ও এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মতামত নিয়েছে বিএনপি। সমমনাদের মতামতের ওপর পর্যালোচনা করে স্থায়ী কমিটির সভায় পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি চলছে আন্দোলনের অভিন্ন রূপরেখা তৈরির কাজও।
তারা বলেন, সমমনাদের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে ঢাকা, গণভবন ও বঙ্গভবন ঘেরাও এবং রোডমার্চই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। এ ছাড়া অবরোধের মতো কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে।
সমমনা জোটের নেতারা জানান, এক দফা আন্দোলনে নামার আগে ঢাকা অভিমুখে রোডমার্চ, লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ঢাকার আগে সাংগঠনিক বিভাগীয় শহরে একই কর্মসূচি পালন করতে চান তারা। এ ছাড়া প্রতিটি সিটি করপোরেশন এলাকায় বড় সমাবেশ, পদযাত্রার মতো কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছেন সরকারবিরোধীরা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই এক দফার আন্দোলন সফল করতে চান তারা।