শ্রীপুরে বকেয়া নিয়ে শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষ, আহত ৫০

গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। দু’পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় অন্তত অর্ধশত শ্রমিক আহত হন বলে জানা গেছে। পরে উত্তেজিত শ্রমিকরা শিল্প পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ডার্ড কোম্পজিট পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, বকেয়া পাওনার দাবিতে গত শনিবার বিক্ষোভ করেন তারা। কারখানা কর্র্তৃপক্ষের আশ্বাস অনুযায়ী গতকাল শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও আশ্বাস বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি না দেখে শ্রমিকরা ফের উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। শ্রমিকদের দাবি, তাদের তিন মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অর্থকষ্টসহ নানা দুর্ভোগে দিন পার করছেন। এ নিয়ে বহুবার কারখানা কর্র্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধের কথা বললেও শেষ পর্যন্ত কোনো কথা রাখেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, গত শনিবার বকেয়া পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলেও পুলিশের মধ্যস্থতায় সরে যায়। গতকাল বকেয়া বেতন পরিশোধের কথা ছিল মালিকপক্ষের। সে অনুযায়ী দুপুর পর্যন্ত কারখানার ভেতরেই শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। ডার্ড কোম্পজিটের মালিক আসার কথা থাকলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত মালিক কারখানায় উপস্থিত না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের দাবি ছিল, মালিককে আসতে হবে এবং বকেয়া বেতনসহ সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। তবে কারখানার মালিক বিকেলেও কারখানায় আসেননি। এতে শ্রমিকরা ফের উত্তেজিত হয়ে কারখানার ভেতরেই আন্দোলন শুরু করে। এ নিয়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দু’পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনরত শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বেশ কিছু নারীশ্রমিক ভয়ে ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হন।

কারখানাটির বিক্ষুব্ধ এক শ্রমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিকেলে আমাদের নিয়ে শ্রমিক নেতারা কারখানা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে। দীর্ঘ আলোচনায় কোনো সমাধান করতে পারেনি কারখানা কর্র্তৃপক্ষ। পরে শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ফের আন্দোলনে নামে। আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ মালিকপক্ষের হয়ে আমাদের ওপর নির্যাতনে নামে।’

এই শ্রমিক আরও বলেন, ‘তিন মাস ধরে আমাদের বেতন বকেয়া রেখেছে মালিকপক্ষ। এতে আমাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বাড়ির মালিক, মুদি দোকানি পাওনা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে প্রতিদিন। আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি পরিবার নিয়ে। এমন দুঃসময়ে পাশে না দাঁড়িয়ে পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করেছে।’

শ্রীপুরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন বলেন, বিকেলে আন্দোলনরত শ্রমিকদের একটি প্রতিনিধিদল, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিল্প পুলিশের সদস্য, থানা পুলিশের সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে কারখানার চতুর্থ তলায় আলোচনা চলছিল। হঠাৎ নিচে অবস্থান নেওয়া কিছু শ্রমিক কারখানার দরজা-জানালার গ্লাস ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় পুলিশ উত্তেজিত শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গাজীপুর শিল্প পুলিশের ইনচার্জ (শ্রীপুর জোন) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আলোচনা চলাকালে হঠাৎ করে কিছু শ্রমিক কারখানায় ভাঙচুর চালায়। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিলে কারখানা থেকে বের হয়ে পুলিশের একটি গাড়িতে তারা আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে গাড়িটি পুড়ে গেছে অনেকাংশই। এতে করে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপটি একটি মহল নষ্ট করে দিল।’