হিন্দু নারীদের ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, সম্পত্তি, বিয়েবিচ্ছেদের সমান অধিকারের প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। ছয়টি বেসরকারি সংস্থা ও তিন ব্যক্তির করা রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেয়।
রুলে হিন্দু নারীদের বিয়েবিচ্ছেদ ও রেজিস্ট্রেশন, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, দত্তক এবং সমান ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় নির্দেশিকা বা নীতিমালা গ্রহণ কিংবা সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে নির্দেশ কেন দেওয়া হবেনা তা জানতে চেয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়ন এবং সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবেনা রুলে তাও জানতে চায় আদালত। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ধর্ম সচিব ও সুপ্রিম কোর্টেও রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলেছে আদালত।
গত ২ মে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নারীপক্ষ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও অভিযান এ ছয়টি সংগঠন এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জ্বল পাল, ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা পলি ব্যানার্জী এবং নাটোরের বিতিশা বাগচীর পক্ষে এ আবেদনটি করা হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জেড আই খান পান্না। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস এম রেজাউল করিম, সৈয়দা নাসরিন ও মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন।
অ্যাডভোকেট নাসরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হিন্দু নারীদের আইনিভাবে ভরণপোষণ নেই, অভিভাবকত্বের সুযোগ নেই, দত্তক নিতে গেলেও অনুমতি নিতে হয়। কোনো কারণে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হলে পৃথক হতে আদালতে গিয়ে আবেদনের সুযোগ থাকলেও এটা কোন আইনের কোন ধারায় তাও স্পষ্ট নয়। সংবিধানে নারী ও পুরুষের সমান অধিকারের কথা বলা আছে। কিন্তু এভাবে কাউকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এই আধুনিক যুগে বৈষম্যমূলক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রিট আবেদন আসলে সনাতনী কোনো আইন, রীতিনীতি বা প্রথার মধ্যে বৈপরীত্য তৈরি করা উদ্দেশ্য নয়। মানবাধিকারের প্রশ্নেও হিন্দু নারীদের অধিকারটুকু নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আদালত বক্তব্য শুনে রুল দিয়েছে।’