দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান মিত্রশক্তির কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছিল। পরাধীন অবস্থায়ই এক দশক অতিক্রম করতে না করতেই পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিতে জাপান এশিয়ার শীর্ষ দেশে পরিণত হয়। জাপানের অর্থনীতি ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়ায়। জাপান মূলত একটি সাম্রাজ্যবাদী দেশ। ১৮৬৮ সালে মেইজি বিপ্লবের পর এই দেশটি সাম্রাজ্যবাদী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে জাপানের সাম্রাজ্যবাদী নীতি ছিল সমগ্র এশিয়াকে করায়ত্ত করা। সে সময় থেকে চীন ও রাশিয়া জাপানের সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মেরুকরণের বাস্তবতায় জাপান চীন ও রাশিয়াবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে। এর কারণ নিহিত রয়েছে, গণচীনের চীন সাগর অভিমুখী সম্প্রসারণবাদী তৎপরতায়। কারণ চীন সাগরে গণচীনের সম্প্রসারণবাদী নীতি সফল হলে, জাপান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশসহ চীন সাগরে অবাধ চলাচলের অধিকার হারাবে। জাপানের বিপুল সমুদ্রসীমা চীনের করায়ত্ত হয়ে পড়বে। চীন সাগর অভিমুখী চীনের এ সম্প্রসারণবাদী তৎপরতাকে ঠেকাতে জাপান তার মিত্রদেশ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতকে নিয়ে গঠিত কোয়াডের আওতায় যুদ্ধকৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করেছে।
অন্যদিকে, জাপান যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শক্তির অনুবর্তী বিধায় জাপান ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী অবস্থান গ্রহণ করেছে। যৌথ বিবৃতিতে জাপান তার চীন-রাশিয়াবিরোধী অবস্থানকে স্পষ্ট করতে গিয়ে বলেছে যে, ইউরোপ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা একই সূত্রে গাঁথা এবং চলমান বিশ্বব্যবস্থাকে স্থিত রাখতে এ দুই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখযোগ্য যে, জাপানসহ পশ্চিমা শক্তি রাশিয়া ও চীনকে যথাক্রমে ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ৫১ বছর আগে। সে হিসাবে গত বছর কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী পালন করল। কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশ দুটির মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে। সে জন্য জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে ঋণ ও অনুদান দিয়ে এসেছে। দুই দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন গতিশীল হলে জাপান বাংলাদেশে শিল্প ও সেবা খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসে। দেশের সড়ক যোগাযোগ, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ইত্যাদি অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থনৈতিক ও প্রাযুক্তিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বিদ্যমান এ সম্পর্ককে এতদিন উভয় দেশ সার্বিক অংশীদারত্ব-ভিত্তিক সম্পর্ক হিসেবে বর্ণনা করলেও গত ২৬ এপ্রিল নতুন সম্পর্ককে উভয় দেশ কৌশলগত অংশীদারত্ব-ভিত্তিক সম্পর্ক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। জাপান বাংলাদেশের সম্পর্ককে বৈশিষ্ট্যায়িত করতে ব্যবহৃত কৌশলগত পরিভাষাটি কূটনীতিক মহলে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। কারণ কৌশলগত পরিভাষাটি আমাদের দেশে সমরবিদ্যার অন্তর্ভুক্ত পরিভাষা বলে বিবেচনা করা হয়। বস্তুত দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ও যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে দেশ দুটি নতুন সামরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু দশক দুই আগে এ দেশের কোনোটিরই সামরিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো পররাষ্ট্রনৈতিক ও সামরিক ভিত্তি ছিল না। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হলো বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত নীতি সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।
তা ছাড়া বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারত্ব সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মতো অর্থনৈতিকভাবে ও সামরিকভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী ছিল না। অন্যদিকে জাপানের কোনো দেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা ছিল। এ প্রতিবন্ধকতা আরোপিত হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্র্তৃক। কারণ ১৯৪৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণাধীনে প্রণীত সংবিধান অনুসারে জাপানের যুদ্ধ করার অধিকার ছিল না। কিন্তু চীন সাগর ও মধ্য এশিয়ায় গণচীনের আধিপত্যবাদী কার্যক্রম মোকাবিলার স্বার্থে জাপান ১৯৯৪ সালের জুলাইয়ে তার সংবিধান সংশোধন করে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে জাপান যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অধিকার ফিরে পায়। চলমান নতুন মেরুকরণের বাস্তবতায় বাংলাদেশের কোনো এক ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশ মানে হলো অন্য মেরুর দেশগুলোর আক্রোশের লক্ষ্যবস্তু হওয়া। মেরুকরণের এ বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান সরকার জাপানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করল। যার মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যত যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ক্ষমতার বলয়ে প্রবেশ করল, অর্থাৎ বিপরীতক্রমে রাশিয়া-চীনের নেতৃত্বাধীন বলয়ের দেশগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। জাপানের চীন-রাশিয়াবিরোধী যে পররাষ্ট্র ও সামরিক নীতি রয়েছে, তাকে সমর্থনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কার্যত জাপানের সামরিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অঙ্গীকার আদায় করেছে। এক যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ জাপানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও দুটি বিষয়ের অনুকূলে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সেগুলো হলো উত্তর কোরিয়া কর্র্তৃক পারমাণবিক মারণাস্ত্র ও স্থাপনা তৈরির বিপক্ষে জাপানের কৌশলগত অবস্থানকে সমর্থন জানানো এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ পুনর্গঠনের মাধ্যমে জাপানকে এর সদস্য লাভে সমর্থন জানানো। বাংলাদেশ যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এতসব সমর্থনের ফলে কার্যত জাপানের বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতিকে সমর্থন জানাল।
জাপানের বৈশ্বিক পররাষ্ট্রনীতি ও কূটনীতিকে সমর্থনের বিপরীতে, বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে রোহিঙ্গা নীতিকে সমর্থন ও আসিয়ান ঘোষিত পাঁচ দফা ঐকমত্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারকে তাগিদ জানানোসহ ব্যাপক অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার এবং সম্মতি আদায় করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে পরোক্ষভাবে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য ভারত, চীন ও মিয়ানমার কর্র্তৃক প্রযোজিত সম্প্রসারণবাদী তৎপরতার বিরুদ্ধে নৈতিক সমর্থন আদায় করল। কারণ এ বঙ্গোপসাগর হলো বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি সমুদ্রাঞ্চল। আর জাপান সমুদ্রসীমায় স্বাধীন ও মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি পোষণ করে, তার আওতায় বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাপানের নৈতিক সমর্থন লাভ করল। বাংলাদেশ জাপানের কাছ থেকে অর্থনৈতিক ও প্রাযুক্তিক উন্নয়নেও ব্যাপক সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছে। জাপান মনে করে, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করা হলে আঞ্চলিক অর্থনীতির সম্প্রসারণ ঘটবে, যা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে অবদান রাখবে। বাংলাদেশকে ঘিরে জাপানের এ কৌশলগত অবস্থান ১০ বছর আগে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিগ-বি নীতির প্রতিফলন বিশেষ। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মে মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে গণচীন সরকারের গৃহীত এক অঞ্চল, এক পথ নীতির বিপরীতে বিগ-বি নীতি গ্রহণের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। এই বিগ-বি নীতির আওতায় জাপান বাংলাদেশে শিল্পমান শৃঙ্খল ও স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল সৃজনে সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এ দ্বিবিধ শৃঙ্খল সৃজনে প্রয়োজনীয় শিল্প অবকাঠামো ও যোগাযোগ অবকাঠামো তৈরিতে জাপান সহযোগিতা করে যাচ্ছে।
এ সহযোগিতার আওতায় জাপান চট্টগ্রামে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ করেছে। একই সঙ্গে জাপান মাতারবাড়ীকে ঘিরে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এ ছাড়া জাপান শিল্প উৎপাদন শৃঙ্খল উন্নয়নে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং জাপানের বিনিয়োগে শিল্প ও সেবাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনে সহায়ক জাপান-বাংলাদেশ পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ অর্থনৈতিক সংলাপ নামক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে। শৃঙ্খল সৃজনে সহায়ক ওই সংস্থান নির্মাণকাজের বাইরেও জাপান ঢাকা শহরে ঢাকা ব্যাপকভিত্তিক দ্রুত অতিক্রমণের আওতায় মেট্রোরেল যোগাযোগব্যবস্থা ও বিমানবন্দর বর্ধিতকরণ প্রকল্প এবং পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পে আর্থিক ও প্রাযুক্তিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ভারত ও চীনের জন্য স্পর্শকাতর একটি বিষয় রয়েছে। এ যৌথ ঘোষণায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে জাপান সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর যুদ্ধজাহাজের পৌনঃপুনিক আগমন এবং দুই দেশের উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের পারস্পরিক সফর বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক উন্নয়নের আস্থা ব্যক্ত করেছেন। সে জন্য দুই দেশের পরস্পরের রাজধানী শহরে সামরিক শাখা স্থাপনের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ টোকিওতে প্রতিরক্ষা শাখা এবং জাপান ঢাকায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি শাখা স্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বিষয়টি সমঝোতা স্মারকের ৪নং দফায় আরও পরিস্ফুট হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে এ সমঝোতার আওতায় প্রতিরক্ষা সংলাপ, সফর বিনিময়, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কোর্স, সেমিনার, ওয়ার্কশপ, প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত অন্যান্য কার্যক্রম এবং সহযোগিতা জোরদার করা হবে। মেইজি বিপ্লবের ফলে জাপান নতুন সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরবিন্যাসে বিন্যস্ত হয় এবং আপাত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। জাপানের সমাজে রাজনৈতিক সংহতি বৃদ্ধি পায় এবং এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সময় মেইজি সরকার ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আহরণে উদ্যোগী হয়। তখন জাপান দেশব্যাপী বোধগম্য একটি প্রমিত ভাষা সৃষ্টির কাজে মনোযোগী হয় এবং এই ভাষাকে ব্যবহার করে মেইজি রাজতন্ত্র একটি সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা কায়েম করে। ইউরোপীয় দেশগুলো থেকে প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে শুরু করে; যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানান ভৌত অবকাঠামো গড়ে তুলতে সচেষ্ট হয় এবং এর ভিত্তিতে ক্ষুদ্র কলকারখানা গড়ে তোলা শুরু করে। প্রাযুক্তিক সক্ষমতা অর্জনের ফলে জাপান ফুকোকু কিয়োহেই নীতির আওতায় যুদ্ধাস্ত্র ও যুদ্ধ সরঞ্জাম তৈরিতে মনোযোগ দেয়। মেইজি বিপ্লবের তিন দশকের মধ্যে জাপান বিপুল যুদ্ধ সক্ষমতা অর্জন করে এবং বিশ্বের সে সময়কার পরাশক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। জাপান মেইজি বিপ্লবের পর থেকে আপাতত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অফুরন্ত সামাজিক সম্পদ অর্জন করে, তা সামাজিক সম্পদ হিসেবে সমাজে নিহিত থাকে। যুদ্ধে হেরে যাওয়ার পর, এই অন্তর্নিহিত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে জাপান পণ্য ও সেবা উৎপাদনে মনোযোগ দেয়। তখন গুণ ও মানের কারণে বিশ্বজুড়ে জাপানি পণ্যের বাজার সৃষ্টি হয়। ফলে জাপানের মোট দেশীয় উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ঘটতে থাকে, যে কারণে বিশ্বযুদ্ধ সমাপ্তির এক দশকের মধ্যেই জাপান শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে যায়। তারপর থেকে জাপানের অগ্রগতি আর থেমে না, তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই জাপানের এ সহযোগিতার হাত ধরে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।
লেখক: গবেষক ও কলাম লেখক
raihan567@yahoo.com