গরমে স্বস্তি পেতে অনেকেই উঁচু করে চুল বেঁধে রাখছেন। তবে এভাবে সারাক্ষণ বেঁধে রাখলে ক্ষতিটা হয় চুলেরই। গরমে চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে যত্ন ও সাজ দুটোই জানা থাকা চাই। হেয়ারস্টাইলিস্ট সাঈম হোসেনের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
চুলের চার স্টাইল
পনিটেল : গরমের জনপ্রিয় হেয়ারস্টাইল হলো পনিটেল। সহজে ও দ্রুত পনিটেল করা যায়। গরমে একটু উঁচু করে চুল বাঁধতে চাইলে এই স্টাইলটি বেছে নিতে পারেন। পনিটেল আছে নানা রকমের। ছোট পাঞ্চ ক্লিপ দিয়ে কিছু চুল আটকে পুরো চুলটা পনিটেল করে রাখা যায়। আবার সব চুল টেনে উচু করে পনিটেল করা যায়। লো পনিটেল ও হাই পনিটেল দুই-ই গরমে আরাম দেবে। কানের দুই পাশ থেকে চুল নিয়ে পেঁচিয়েও পনিটেল করতে পারেন।
ফ্রেঞ্চ বেণি : গরম আটকাতে অনেকেই বেছে নেন ফ্রেঞ্চ বেণি। এই ফ্রেঞ্চ বেণিতে চুলে গরম যেমন কম অনুভূত হয় তেমনি স্টাইলটাও থাকে ঠিকঠাক। প্রথমে চুল আঁচড়ে সিঁথি করে পাশ থেকে অল্প চুল নিন। এই চুলগুলো তিন ভাগ করে ফ্রেঞ্চ বেণি শুরু করুন। বেণির বাঁধনের প্রতিটি ধাপে নিচ থেকে একগোছা চুল বেণিতে ঢুকিয়ে নিন। এক পাশের বেণি শেষ করে কানের কাছে আটকান। একইভাবে সিঁথির অন্য পাশেও বেণি করুন। এবার পেছনের সব চুল নিয়ে খেজুর বেণি করুন। ফ্রেঞ্চ বেণির মতোই খেজুর বেণি করা হয়। শুধু চুল তিন ভাগ না করে দুই ভাগ করুন। এক ভাগ থেকে একগোছা চুল নিয়ে অন্য ভাগে মিলিয়ে দিন। এভাবে পরপর একগোছার চুল আরেক গোছায় দিন। চুলের আগায় এসে সুন্দর ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে নিন। ফরমাল ও নন ফরমাল দুটো সাজেই ফ্রেঞ্চ বেণি করতে পারেন।
টুইস্ট খোঁপা : হাতে সময় কম থাকলে দ্রুতই টুইস্ট খোঁপা করতে পারেন। টুইস্ট খোঁপা সাজে জমকালো ভাব এনে দেয়। টুইস্ট খোঁপার জন্য চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। সামনে লেয়ার কাট থাকলে এক পাশে সিঁথি করতে পারেন। সিঁথি ছাড়াও খোঁপাটি বেশ ভালো দেখায়। প্রথমে কপালের সামনের চুলগুলো আলাদা করুন। মাথার মাঝের চুলগুলো পাফ করে অল্প করুন। এবার সামনের চুলগুলো কয়েকটি গোছা করে নিন। প্রতিটি গোছাকে একে একে পেঁচিয়ে টুইস্ট করে পাফ করা চুলের ওপর দিয়ে পেছনে এনে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিন। সামনের সব চুল টুইস্ট হয়ে গেলে পেছনের চুলগুলো রাবার দিয়ে আটকান। সামনের মতো পেছনের চুলগুলোকে বেশ কয়েকটি গোছা করে নিন। প্রতিটি গোছাকে টুইস্ট করে পেঁচিয়ে খোঁপার শেপ করুন। আকর্ষণীয় লুক পেতে খোঁপার এক পাশে ফুল গুঁজে দিতে পারেন।
রিবন টুইস্ট : ক্লাস, শপিংয়ের সময় রিবন টুইস্ট করতে পারেন। পুরো টুল আঁচড়ে মাথার এক পাশে নিয়ে আসতে হবে। যে পাশে চুল থাকবে না, সেই পাশে ক্লিপ দিয়ে ভালোভাবে আটকে দিতে হবে। এবার এক পাশে আনা চুলগুলো রাবার ব্যান্ড দিয়ে পনিটেল করে নিন। পনিটেল করা চুলগুলো কালো ফিতা দিয়ে পেঁচিয়ে নিচের দিকের কিছুটা গোছা ছেড়ে রাখতে হবে।
চুল বাঁধার আগে
গরমে চুলের ঘনত্ব, দৈর্ঘ্য এবং চুলের ধরন অনুযায়ী চুল বাঁধতে হবে। যাদের চুল বেশ ঘন এবং লম্বা, সাধারণভাবেই তাদের চুল ভারী হয়। সুতরাং তারা যখন চুল বাঁধেন, তখন চুলে অনেক বেশি টান পড়বে। এতে চুলের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাথাব্যথাসহ আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এরপর বুঝতে হবে নিজের চুলের ধরন বা টেকশ্চার। চুল যদি স্ট্রেট বা সাধারণ ধরনের হয়, তবে যেকোনোভাবেই বাঁধা যায় বা স্টাইলিং করা যায়। আর যদি কোঁকড়ানো বা ছোট চুল হয়, তাহলে চুল বাঁধা বা স্টাইলিং অতটা সহজ নয়।
অনেকে পেছনে টেনে ব্যাকব্রাশ করে চুল আটকে রাখেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বেশি দিন এভাবে চুল বাঁধলে কপালের আয়তন বেড়ে যেতে পারে। আর দীর্ঘ সময় চুল বেঁধে রাখলে মাথার তালুতে ঘাম হবেই। ঘামের ফলে ময়লা জমবে এবং চুলের ক্ষতি হবে। চুল বাঁধার আগে মাথার তালু এবং চুলের প্রস্তুতি জরুরি।
অনেকেই পরিষ্কার চুল খুলে রাখেন এবং নোংরা, তেলতেলে চুল বেঁধে রাখেন। কিন্তু বিষয়টি উল্টো হতে হবে। পরিষ্কার চুল খুলে রাখলে তাতে ধুলা-ময়লা এবং ঘাম জমে দ্রুত ময়লা হয়ে যাবে।
আবার ময়লা বা তেল-চিটচিটে চুল বেঁধে রাখার অর্থ, মাথার তালুর স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করা। চুলে ঘাম জমলে অতিরিক্ত ময়লা আটকাবে। পাশাপাশি চুলের গোড়া আলগা হয়ে যেতে পারে। এ কারণে সঠিক নিয়মে চুল বাঁধা প্রয়োজন এবং চুল বাঁধার আগে অবশ্যই চুল পরিষ্কার রাখতে হবে। অর্থাৎ ভালোভাবে শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ব্যবহারের পরই চুল বাঁধা উচিত। যতটা সময় চুল বেঁধে রাখা হবে, ততটা সময় চুলের ডগায় পুষ্টি পৌঁছায় না। চুল বাঁধার আগে অবশ্যই ভালোভাবে চুলের জট ছাড়িয়ে চুল বাঁধলে অনেক চুল নষ্ট হতে পারে এবং চুল পড়ার প্রবণতাও বাড়ে।
খেয়াল রাখুন
চুল খুব টেনে বা উল্টে বাঁধতে হয়, এমন স্টাইল না করাই ভালো। একটু হালকা বাঁধনের হেয়ার স্টাইল নির্বাচন করতে হবে। চুল লম্বা এবং খুব ঘন হলে পনিটেল-জাতীয় হেয়ার স্টাইল করতে পারেন। তবে অনেক বেশি টেনে বাঁধা যাবে না। ছোট বা মাঝারি দৈর্ঘ্যরে চুলের জন্য বা পাতলা চুলের জন্য খোঁপা, মেসিবান, পনিটেল, ফ্রেঞ্চব্রেড সবই চলতে পারে। শুধু খেয়াল রাখবেন, ব্যাকব্রাশ যেন বেশি করতে না হয়। চুল নির্দিষ্ট জায়গায় ধরে রাখার জন্য অল্প স্প্রে বা মুজ ব্যবহার করতে পারেন। যারা সিøক পনিটেল পছন্দ। তারাও চুল পেছনে বাঁধার সময় আলগা করে বাঁধুন। কিছু কিছু হেয়ার স্টাইল রয়েছে, যার জন্য চুল বেশ শক্ত করে বাঁধার প্রয়োজন হয়। সে ক্ষেত্রে চুলের গোড়ায় অল্প নারিকেল তেল লাগিয়ে নিতে পারেন। তবে গরমে তেল ব্যবহারে আরও গরম লাগবে।
যা করবেন না
গোসল করে ভেজা চুল বেঁধে বেরিয়ে পড়েন অনেকে। এতে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। ভেজা চুল বাঁধলে চুলের গোড়া শুকানোর সুযোগ পায় না। চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। চুল ঝরার সমস্যা দেখা দেয়। সব সময় শক্ত করে চুল বেঁধে রাখার ফলে চুলের গোড়া ফেটে যায়। আগা দুর্বল হয়ে পড়ে। এই গরমে বাইরে চুল বেঁধে রাখলেও বাড়িতে থাকলে মাঝে মাঝে চুল খুলে রাখুন। শ্যাম্পু করার পর দ্রুত চুল শুকাতে অনেকেই মাথায় তোয়ালে জড়িয়ে রাখেন। এতে চুলের ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তাই ভেজা চুলে তোয়ালে না জড়িয়ে শুকিয়ে নিন বাতাসে। রাতে চুল বেঁধে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সমস্যা বাড়ে। চুলে বেশি চাপ পড়ে। চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়। তবে গরমে চুল বেঁধে ঘুমালেও হালকা করে বাঁধুন। বেশি শক্ত করে না বাঁধাই ভালো।