যে ১০ গোনাহের কারণে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না

নিম্নে এমন ১০টি বিশেষ গোনাহ ও অপরাধের কথা উল্লেখ করা হলো যেগুলোর ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে, এ সব গোনাহের কারণে মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করবে না কিংবা জান্নাতের ঘ্রাণ পাবে না অথবা বলা হয়েছে, জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ওইসব গোনাহগুলো হলো

ইমান না আনা : হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘ইমানদার ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ সহিহ বোখারি ও মুসলিম

তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা ইমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন না।’সহিহ মুসলিম : ৫৪

প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া : হজরত রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ সহিহ মুসলিম : ৪৬

অহংকার করা : নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার রয়েছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ সহিহ মুসলিম : ৯১

চোগলখোরি ও পরনিন্দা : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, চোগলখোর বা পরনিন্দাকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ সহিহ মুসলিম : ১০৫

তিনি আরও বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সবচেয়ে খারাপ লোকদের দলভুক্ত হিসেবে ওই ব্যক্তিকে দেখতে পাবে, যে ছিল দুমুখো। যে একজনের কাছে এক কথা আরেকজনের কাছে আরেক কথা নিয়ে হাজির হতো।’ মুসলিম : ২৫২৬

আত্মহত্যা : নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, সে তার বিষ তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।’ সহিহ বোখারি : ৫৪৪২

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ সহিহ মুসলিম : ২৫৫৬

হারাম খাওয়া : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হারাম অর্থের মাধ্যমে (যে শরীরে) মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। অর্থাৎ যে ব্যক্তি হারাম অর্থ ও অবৈধ উপার্জন দ্বারা দেহ গঠন করেছে জাহান্নামের আগুনই তার প্রাপ্য।’ মিশকাতুল মাসাবিহ : ২৭০৩

উপকার করে খোঁটা : নবী কারিম (সা.) বলেছেন, ‘ওই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যে উপকার করে খোঁটা দেয়।’ সুনানে নাসায়ি : ৫৬৮৮

ঋণ পরিশোধ না করা : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কোনো ঋণগ্রস্ত মৃতের লাশ (জানাজার জন্য) নিয়ে আসা হলে জিজ্ঞেস করতেন, সে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে কি না? যদি বলা হতো করেছে, তবে জানাজা পড়তেন। অন্যথায় (সাহাবিদের) বলতেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ে নাও (কিন্তু তিনি নিজে তাতে অংশগ্রহণ করতেন না)। সহিহ মুসলিম : ১৬১৯

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শহীদের ঋণ ছাড়া সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ সহিহ মুসলিম : ১৮৮৬

কঠোর প্রকৃতি ও কটূভাষী হওয়া : কঠোর প্রকৃতি ও কটূভাষী লোক এবং যে ব্যক্তি মানুষের কাছে এমন বিষয় নিয়ে গর্ব অহংকার প্রকাশ করে বেড়ায় প্রকৃতপক্ষে যা তার কাছে নেই, এগুলো গোনাহের কাজ। হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কঠোর প্রকৃতি ও কটূভাষী লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং ওই লোকও নয় যে এমনসব বিষয়ে মানুষের কাছে গর্ব অহংকার প্রকাশ করে বেড়ায় প্রকৃতপক্ষে যা তার কাছে নাই।’ সুনারেন আবু দাঊদ : ৪৮০১

উল্লেখিত গোনাহ ছাড়া এমন আরও অনেকে গোনাহ রয়েছে। কিন্তু ব্যাপক প্রচলিত কিছু বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো। আল্লাহর নিকট দোয়া করি, তিনি যেন প্রত্যেক মুসলমানকে যেসব গোনাহ জান্নাতের পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং জাহান্নামের দিকে টেনে নিয়ে যায় সেগুলো থেকে হেফাজত করেন।