খুলনায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় ১৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। খুলনা সদর থানার এসআই খালিদ উদ্দিন বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে এ মামলা করেন। পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, খালিশপুর থানার আলমনগর এলাকার সোহেল রানা (২০), ২৬ নম্বর ওয়ার্ড ওয়ার্লেস ক্রস রোড এলাকার গাজী সালাউদ্দীন (৪২), রূপসা থানার দেয়াড়া এলাকার মো. আতাউর রহমান (৪৮), আইচগাতী এলাকার মো. সেকেন্দার শেখ (৬০), বটিয়াঘাটা থানার বাড়োয়াড়িয়া এলাকার মো. শাইখুল মোল্যা (৩৪), লবনচরা থানার হরিনটানা এলাকার মো. ওয়াহিদ শেখ (৩২), দাকোপ থানার খেজুরিয়া এলাকার মো. রাসেল (২৪), সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতী ইসলাম কমিশনার মোড় এলাকার রাব্বি চৌধুরী (২৯), দাকোপ থানার গুনারী এলাকার মাহবুব গাজী (২৬), রূপসা থানার আইচগাতী এলাকার মনিরুজ্জামান মামুন (৪২), সোনাডাঙ্গা থানার ট্রাক স্ট্যান্ড, আব্দুল গনি সড়ক এলাকার মো. রাজু শেখ (৪১), নগরীর নতুন বাজার ওয়াপদা ভেরীবাঁধ রোড এলাকার মো. আলিফ মিলন (৩১) এবং নতুন বাজার খ্রিষ্টানগলি এলাকার মো. রাসেল (২৭)।
জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে সরকারের পদত্যাগ, মামলা ও গণগ্রেপ্তার বন্ধসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা প্রেস ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করে বিএনপি। বিকেলে প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। আগে থেকেই সেখানে বিপুল-সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। সমাবেশের প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল প্রাইভেটকারে করে ক্লাবের সামনে আসেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা স্নোগান দিতে থাকে। বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পুলিশের সঙ্গে নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। অপরদিকে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এসএম শফিকুল আলম মনা বলেন, সমাবেশে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। বক্তব্য দিতে দেয়নি। উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। হামলা-মামলা করে বিএনপি নেতাকর্মীদের দমন করা যাবে না।
খুলনা সদর থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় বিএনপির তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, মহানগর সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিনসহ ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ১২০০/১৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।