দেশে বর্তমানে ১৫ কোটি কেজি বস্ত্র বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এসব বস্ত্র বর্জ্য রিসাইকেল বা পুনঃব্যবহার উপযোগী করার ক্ষেত্রে শুল্ককর দিতে হয়। বাজেটে এই শুল্ককর প্রত্যাহার করা হলে তুলা আমদানি ১৫ শতাংশ কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী।
আগামী অর্থবছরে বৈশি্বক মন্দার মধ্যে টিকে থাকতে কেমন বাজেট প্রয়োজন এমন প্রশ্নের উত্তরে ব্যবসা খাতের এই নেতা এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, রিসাইকেল ফাইবার, ম্যান মেইড ফাইবারসহ সব ধরনের আমদানি পর্যায়ে যাবতীয় শুল্ক, মূসক ব্যতীত আমদানির সুযোগ, সব ধরনের পাওয়ার লুমে উৎপাদিত কৃত্রিম আঁশের সুতার তৈরি ফেব্রিকসের ওপর মূসক অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, বর্তমানে সুতা তৈরির জন্য ক্রেতা বা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো তাদের তৈরি পোশাকসামগ্রী কী ধরনের ফাইবারের দ্বারা প্রস্তুত করতে হবে তা নির্ধারণ করে দেয়। স্পিনিং মিলগুলো সুতা তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরনের ফাইবার আমদানি করে থাকে। এসব ফাইবারের ওপর উচ্চহারে রাজস্ব ধার্য আছে। বৈশি^ক মন্দার কারণে আগে যে দামে কেনা যেত, এখন তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে সুতা তৈরিতে খরচ বেড়েছে। এতে সামগ্রিকভাবে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এ বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে আগামী বাজেটেই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সভাপতি আরও বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের শিল্প খাতের অবস্থানকে দৃঢ় করতে ব্যবসায়িক খরচ (কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস) কমিয়ে এনে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সুষম বিনিয়োগ সহায়ক মুদ্রা ও শুল্ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, শিপিং খরচসহ সব ধরনের পরিবহন খরচ হ্রাস, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি বলে মনে করছি।’ উৎপাদন এবং আয় বাড়াতে সব রপ্তানি এবং শিল্প খাতে করমুক্ত রেয়াতি হারে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। জমি কেনা, ভবন নির্মাণ এবং শিল্প ও সেবা খাতের ইউটিলিটি বিলসহ সব উৎপাদনশীল খাতে প্রদেয় যাবতীয় প্রশাসনিক সেবা পরোক্ষ করমুক্ত রাখার দাবি করেছেন ব্যবসা খাতের এই শীর্ষ নেতা।
উৎসে করে ছাড়ের জোরালো দাবি জানিয়ে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, আগামী বাজেটে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের সিদ্ধান্ত বহাল রাখতে হবে। একই সঙ্গে কারখানা নির্মাণ, সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের যন্ত্রপাতিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ যথাযথ না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। জানুয়ারি মাসে গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের দাম তিনবার বেড়েছে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এসব কারণে আমাদের ব্যবসায়ের খরচ বেড়েছে। এ সমস্যা আগামী বাজেটেই সমাধানে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
ব্যবসায়ী এই নেতা বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী কাস্টমস, মূসক ও আয়করসংক্রান্ত যেসব বিধিবিধান ও পদ্ধতি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ থাকবে না, সেগুলো চিহ্নিতকরণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও পদ্ধতিগত সংস্কার করতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনে ব্যবসাবান্ধব ও করদাতা সহায়ক প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিতকরণ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ জোরদারকরণ এবং আমদানি শুল্ক, আয়কর এবং মূল্য সংযোজন কর বিষয়ে বিদ্যমান বিধিবিধানের ব্যবসা এবং শুল্ককরবান্ধব সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানে পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসায়ীদের ওপর রাজস্বের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে তা বাড়ানো যাবে না; বরং ব্যবসা করার সুযোগ দিতে রাজস্বের হার কমাতে হবে। এতে শেষ পর্যন্ত সরকার লাভবান হবে।