শিক্ষা খাতের সবচেয়ে বড় প্রকল্পগুলোর একটি চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)। করোনার ধাক্কা সামলে গত বছর কিছু ব্যয় কমিয়ে ২ বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল এ প্রকল্পে। এতে অন্যতম ঋণদাতা সংস্থা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। নতুন করে এ প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ডলার অনুদান দিচ্ছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাটি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ইআরডি সূত্র জানায়, এডিবির সঙ্গে আগামী ৫ জুন প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের নতুন চুক্তি হতে যাচ্ছে। প্রতি ডলার ১০৬ টাকা ধরে নতুন অনুদান ১৩১ কোটি টাকার বেশি হয়। মূল প্রকল্পটি শুরু হওয়ার সময় এডিবি এ প্রকল্পে ৫০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছিল। নতুন করে এ অনুদানের পর প্রকল্পটিতে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়নের শর্ত দিয়েছে এডিবি।
জানতে চাইলে প্রকল্পটির উপপরিচালক মো. ফরহাদ আলম দেশ রূপান্তরকে জানান, এডিবি নতুন করে অতিরিক্ত যে অর্থায়ন করছে এর পুরোটাই অনুদান। তারা আমাদের কিছু নতুন কার্যক্রম দিয়েছে। কিছু ডিসবার্সমেন্ট লিংক ইনডিকেটর (ডিএলআই), অন্য খাতের ডিসবার্সমেন্ট আছে- এগুলো বাস্তবায়ন করার সাপেক্ষে তারা অর্থ দেবে। আপাতত তারা চুক্তি করছে। এগুলো অর্জন সাপেক্ষে তারা আমাদের টাকাটা দেবে।
প্রকল্পটি ২০১৮ সালে ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে অনুমোদিত হয়। এতে সে সময় এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ ঋণের পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা। আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ডিএআইডি ও কানাডার জিএসির অনুদান ছিল ৩ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা। মোট অনুদান ও ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১২ হাজার ৮০৫ কোটি টাকার বেশি। বাকি ২৫ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা সরকারের তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
২০২২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটির কাজের অগ্রগতি ৩৫ শতাংশ হওয়ায় এর ব্যয় ১০৬ কোটি টাকা কমিয়ে মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানো হয়। ২০২৩ সালে শেষ হওয়ার প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে তখন ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, পিইডিপি-৪ এর মূল কার্যক্রমের মধ্যে স্থানীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বৈদেশিক প্রশিক্ষণের সংস্থান রাখা হয়েছিল। এর আওতায় ২০ হাজার ২২৫ জন শিক্ষক ৭ দিনের জন্য বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন। এ প্রশিক্ষণে মোট ব্যয় হচ্ছে ৫৮৯ কোটি টাকা, জনপ্রতি প্রায় ৩ লাখ টাকা। তবে সে সময় সরকারের বিদেশ সফরের ব্যাপারে নির্দেশনা থাকায় তা আপাতত হচ্ছে না। তবে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।