হুন্ডি ও পাচারকারীদের ধরে জনসম্মুখে আনতে হবে

ডলার সংকট মেটাতে নিত্যপণ্য ছাড়া আমদানি ও বিদেশ গমনে কড়াকড়ি শর্ত আরোপ করেছে সরকার। কিন্তু ডলারের খুব একটা উন্নতি হয়নি, যার নেপথ্যে রয়েছে হুন্ডি ও অর্থ পাচার। সম্প্রতি পাচার কমেছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাহলে এবার দরকার হুন্ডি বন্ধ কার্যকর উদ্যোগ। অর্থাৎ হুন্ডি ও অর্থপাচারকারীদের ধরে জনসম্মুখে আনা ছাড়া মুদ্রানীতি ঘোষণা করেও ডলার সংকটের উন্নতি করা যাবে না।

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড রুমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালকদারের সভাপতিত্বে প্রাক-মুদ্রানীতিতে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) স্টেক হোল্ডারদের ভূমিকা শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

এসময় আলোচনায় অংশ নিয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, হুন্ডি কমলে ডলারের সরবরাহ বাড়বে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। বিশেষ করে রিজার্ভ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম কাজ। যা প্রতিফলন ঘটে মুদ্রানীতিতে।

তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যা রপ্তানি বেড়েছে। কিন্তু আমাদের রেমিট্যান্সে তার প্রতিফলন কম। কেননা, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বেশি আসছে না। অথচ, করোনার সময় রেমিট্যান্স সংগ্রহ মাসে দুই বিলিয়ন ছাড়িয়েছিল। নেপথ্যে ছিল হুন্ডি বন্ধ। এই হুন্ডি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে রেমিট্যান্স সংগ্রহ সহজ করতে হবে। প্রবাসীরা যেন ঘরে বসে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে তারা কারও শরণাপন্ন হবে না। রেমিট্যান্স সরাসরি আসবে। তখন হুন্ডিওয়ালদের দৌরাত্ম্য কমবে।

পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, ‘দেশের সুদের হার তুলে দিয়ে বেঞ্চমার্ক পলিসি, ইন্টারেস্ট করিডর, বৈদেশিক মুদ্রার একক রেট নির্ধারণ নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এসব কার্যকর করা হলে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অর্থনীতির শিক্ষক অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আরও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মুদ্রানীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আসছে। এটা ভালো। তবে স্বল্প আয়ের মানুষের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কেননা, তাদের অনেকে করোনার ধাক্কা সামলাতে পারেননি। এজন্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে বাধা তৈরি করে এমন কিছু করা যাবে না।