উন্নয়ন প্রকল্প প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় খরচ নয়। এটা সবার জন্যই জেনারেল বার্তা। আমাদের কাছে বার্তা এসেছে আমরাও খরচ কমানোর চেষ্টা করছি। প্রকল্পের অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয় খরচ হয়ে যায়। অনেক সময় পরিকল্পনা কমিশনে ধরতেও পারি না। আমাদেরও ক্ষমতা সীমিত। একটি প্রকল্পের প্রস্তাবনা দুই তিন বছরের কাঠখড় পুড়িয়ে এমন গতিতে আমার কাছে পৌঁছায়, ওর সামনে দাঁড়ালে আমারই মৃত্যু হয়ে যাবে। কারণ এর পেছনে অনেক উন্নয়ন সহযোগী আছি।
গতকাল শনিবার নগরীর ওয়েস্টিন হোটেলের বলরুমে ‘আইসিসি রাউন্ট টেবিল অন ইনভেস্টমেন্ট ফর ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক গোল টেবিলে তিনি এ সব কথা বলেন।
বাধ্য হয়ে প্রকল্পে পরামর্শক সেবা নিতে হয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরামর্শক খাতে বড় টাকা চলে যায়। ঋণদাতাদের শর্তের খাতিরে পরামর্শক নিতে হয়। আমরা আগেও দেখেছি নোট কিনলেই মূল বই পাওয়া যেত। বাংলা বাজারে নোট না নিলে বই দিত না। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ দেবে না যদি এই পরামর্শক না নেই। যেহেতু আমরা কম সুদে ঋণ নিয়ে থাকি এই জন্য অনেক বিষয় মেনে নিতে হয়। উন্নয়ন সহযোগীদের বলব আপনারা শর্ত কমান। আমরা রাষ্ট্র আপনারা সংস্থা। তারা দাতা সংস্থা হতে পারে না, এটা হবে উন্নয়ন সহযোগী। কারণ আমরা টাকা ধার নিয়ে থাকি সুদসহ পরিশোধ করে থাকি। আমরা কখনও ব্যর্থ হয়নি।
দেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১২ বছরে দেশে পজিটিভ মুভমেন্ট হয়েছে। সড়ক ও বাস দেখলেই আমরা আনন্দিত হই। সড়কে কতটুকু লাভ হবে এটা দেখিনা। সরকার সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক নজর দিয়েছে। রেলমন্ত্রী বলেছেন পঞ্চগড় থেকে টেকনাফ রেল হবে একটা স্বপ্নের মতো। তবে আমি মনে করি এটা দ্রুত হওয়ার দরকার। চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে দরকার। ডাবল লাইন রেল হচ্ছে। এটা হলেই আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে।
পরিবেশের ক্ষতি করে উন্নয়ন নয় জানিয়ে এম এ মান্নান বলেন, প্লাবন, চরে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে এমন অবকাঠামো করবো না।
গ্রামের মানুষ উন্নয়ন চায় দাবি করে এমএ মান্নান বলেন, গ্রামের মানুষ ভোটার অধিকার ও গণতন্ত্র বোঝে না, তারা টিউবওয়েল-ল্যাট্রিন চায় অথবা একটা ভাতার কার্ড চায়। বাচ্চারা যেন স্কুলে সঠিকভাবে পড়াশোনা করতে যেতে পারে সেই জন্য সড়কে ছোট ব্রিজ চায়। গ্রামের মানুষের চাওয়া ও শহরের মানুষের চাওয়া এক নয়।’
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) বাংলাদেশের সভাপতি ও ইটিবিএল হোল্ডিংস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে গোলটেবিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল হক, হা-মীম গ্রুপের এমডি এ কে আজাদ প্রমুখ।