'সবকিছুরই নাকি দাম বাড়ছে, কমছেটা কী'

বৃহস্পতিবার (১ জুন) সংসদে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারের তৃতীয় মেয়াদের শেষ বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

এবারের অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এ বাজেটে ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।

বাজেট পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানতে দেশ রূপান্তর কথা বলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে।

রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, করোনা পরবর্তী সময় থেকে মধ্যবিত্তদের জীবন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দোহাই দিয়ে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ানো হয়েছে। গতকাল যে বাজেট উপস্থাপন করলেন মন্ত্রী সেখানে তো মধ্যবিত্তদের জন্য কিছু নেই। বাজেট ঘোষণার পর এখন দেখা যাক বাজারে কি পরিমাণ জিনিসপত্রের দাম বাড়ে।

মিরপুরের বাসিন্দা জান্নাতুল ফেরদৌস লাকি বলেন, কাল টিভিতে দেখলাম সাবান ও ফেসওয়াশে কর বাড়ানো হয়েছে। তাহলে ধরে নিচ্ছি বাজারে ইতিমধ্যে দাম বাড়ানো হয়ে গেছে। সবকিছুর ই নাকি দাম বাড়ছে তাহলে কমছে টা কি?

নিয়ম অনুসারে জুন মাসে জাতীয় বাজেট হয়, অনেকেরই তা জানা। তবে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের বাজেট নিয়ে তেমন বিশেষ কোনো কৌতূহল দেখা গেল না। রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার চা দোকানি রমজান, ফুটপাতে খুচরা মোবাইল সামগ্রী বিক্রেতা সালাউদ্দীন, নির্মাণ শ্রমিক দেলোয়ার জানান, বাজেট সম্পর্কে তাদের কোন আগ্রহ নেই। বাজেট কবে হয়েছে সে খবর ও তারা জানেন না। তারা মনে করেন, বাজেট হচ্ছে শিক্ষিত আর টাকাওয়ালা মানুষের বিষয়।

নির্মাণ শ্রমিক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার কীভাবে বাজেট করে, আমি এতকিছু বুঝি না। আমি শুধু বুঝি আমার সংসার চলে না। দিনদিন দুমুঠো খাবার জোগানো কঠিন থেকে কঠিন হচ্ছে।

তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা বাজেট নিয়ে ভাবেন । তাদের একজন রাহেলা আক্তার। তিনি জানান 'আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের জীবনে প্লাস্টিক সামগ্রী খুব গুরুত্বপূর্ণ। দাম বেশি হওয়ার কারণে ছেলে মেয়েদের কাঠের টেবিলের পরিবর্তে প্লাস্টিকের টেবিল কিনে দিতাম। এখন প্লাস্টিকের দাম ও বেড়ে গেল। তা ছাড়া সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস হিসেবে প্লাস্টিক সামগ্রীর ওপর কর বৃদ্ধি মোটেও ঠিক হয়নি'।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কার্তিক কুমার দেব বলেন, জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতির ফলে বারবার কাটছাঁট করেও আয়-ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পারছি না। বাজেটের পরে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে দাম বাড়ছে। ফলে দুশ্চিন্তায় আছি। ভাবছি গ্রামে চলে যাব,সেখানে গিয়ে শাকসবজি খেয়ে কোনোমতে বেঁচে থাকার চেষ্টা করব।

সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার মনে হয় গরিব জনসাধারণের যে ধরনের প্রয়োজনীয়তা এবং চাহিদা বর্তমানে চলমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষিতে আছে মূল্যস্ফিতির চাপ থেকে শুরু করে,জীবনযাত্রার মানের অবনমন সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে মনে হয় না,এই বাজেট গরিবদের প্রয়োজনীয়তার নিরিখে যথোপযুক্ত হয়েছে।

সামগ্রিক বাজেট নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এত বড় একটা বাজেট দেওয়া হয়েছে সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু না কিছু তো থাকবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট হয়েছে কি না, প্রত্যাশার তুলনায় যথোপযুক্ত কি না সেসবের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করতে হবে। এবার একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মূল্যস্ফিতি। যার ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার ওপর একটা বড় ধরনের চাপ পরেছে। যারা নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত তাদের ওপরও মূল্যস্ফীতির চাপ রয়েছে।

তিনি বলেন, ন্যূনতম কর সীমার ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা বাড়ানো হয়েছে, এতে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। কিন্ত এসব মানুষের আবার বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য টিআইএন/টিন নিতে হয়, সে ক্ষেত্রে কর আয় যোগ্য না হলেও কিন্ত তাদের ২ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এর ফলে একটা প্রভাব পরবে। মূল্যস্ফিতি কিছুটা কমলেও, মূল্যস্তর যেখানে গিয়েছে সেটার একটা অভিঘাত পড়বে।

সিপিডির এ ফেলো মনে করেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে জিডিপি ও বাজেটের তুলনায় বরাদ্দ কিছুটা কমে গেছে। টাকার অঙ্কে কিছুটা বাড়লেও শতকরা হিসাবে কিন্ত কিছুটা কমেছে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে আরও ব্যয় বৃদ্ধি করলে সাধারণ মানুষের উপকারে আসত।