জাপানকেও জড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়ার হাত থেকে নিজেদের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলগুলো মুক্ত করতে ইউক্রেনকে এখন প্রতিদিন শত শত হাউৎজার গোলা ছুড়তে হচ্ছে। টান পড়ছে তাদের গোলার মজুদে। মিত্ররাও ঠিকঠাক সরবরাহ করতে পারছে না। তবে তারা গোলবারুদের রসদ সংগ্রহের জন্য এখন দেশে দেশে ছুটছে। কী উপায়ে, কোথা থেকে তা সংগ্রহ করা যায় তার তৎপরতা শুরু করেছে। ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যেই একটা পথও খুঁজে পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫৫ মিলিমিটার কামানের গোলার জন্য জাপানের কাছে ট্রাই নাইট্রো টলুইন (টিএনটি) চেয়েছে।

জাপানের আইনে অন্য দেশের কাছে কামানের গোলাসহ যেকোনো অস্ত্র বা প্রাণঘাতী সরঞ্জাম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কাঁচামালের ক্যাটাগরিতে টিএনটি রপ্তানির একটা উপায় তারাও বের করেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জাপানের কাছ থেকে বিস্ফোরক কেনার একটা পথ রয়েছে। পুরোপুরি সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এমন পণ্যের তুলনায় একাধিক কাজে ব্যবহৃত হয় এমন পণ্য বা সরঞ্জাম বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির ওপর বিধিনিষেধ তুলনামূলক কম থাকায় টোকিও এখন এই পথে ওয়াশিংটনকে বিস্ফোরক পাঠানোর কথা ভাবছে। এই উপায়েই যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক বাহিনীর জন্য প্যানাসনিক টাফবুক ল্যাপটপ কেনে।

আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনকে আতিথেয়তা দেওয়া টোকিও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে বলেছে, তারা শিল্প খাতে ব্যবহৃত টিএনটি বিক্রিতে অনুমোদন দেবে, কেননা এ ধরনের টিএনটি কেবল ‘সামরিক বাহিনীর কাজেই লাগে না, আরও বিভিন্ন কাজে লাগে।’

ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন গোলাবারুদ কারখানার টিএনটি সরবরাহ চেইনে একটি জাপানি কোম্পানিকে চাইছে, তারপর কারখানায় ১৫৫ মিলিমিটার গোলার খোলসে সরবরাকৃত বিস্ফোরক ভরা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে টিএনটি রপ্তানির বিষয়ে কোনো জাপানি কোম্পানি এগিয়ে এসেছে কি না, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি জাপানের বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থ মন্ত্রণালয়। তারা ইমেইলে জানিয়েছে, সামরিক বিধিনিষেধের মধ্যে পড়েনি এমন পণ্যগুলো নিয়মিত রপ্তানি আইনের অধীনে মূল্যায়ন করা হবে, যেখানে সেই সব পণ্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করবে কি না, এমনটাসহ ক্রেতার অভিপ্রায় বিবেচনায় নেওয়া হবে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধিগ্রহণ, প্রযুক্তি ও লজিস্টিক সংস্থা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র জাপান থেকে টিএনটি কেনার পরিকল্পনা করছে কি না, রয়টার্সের এমন প্রশ্নের সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।