সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই পোশাক খাতের জন্য

প্রস্তাবিত বাজেটে রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা খুঁজে পাননি বলে দাবি করেছেন তৈরি পোশাকশিল্প মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান।

তিনি বলেন, উৎসে কর ২০২১-২২ অর্থবছরে যা ছিল সেখানে ফিরিয়ে নেওয়া, নগদ সহায়তার ওপর করারোপ প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বাজেটে অন্যান্য বছরের মতো রপ্তানি খাতগুলোর জন্য প্রণোদনা বাবদ অর্থ বরাদ্দের কোনো ঘোষণাও আসেনি। যদিও বৈশি^ক প্রেক্ষাপটে এ মুহূর্তে রপ্তানি খাতকে সুরক্ষা দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

গতকাল শুক্রবার প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে বিজিএমইএ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান এসব কথা বলেন। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আজিজ গ্রুপের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি শহিদুল্লাহ আজিমসহ পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ফারুক হাসান বলেন, ‘এমনিতেই কভিডের কারণে আমাদের শিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটি পুষিয়ে নিতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তার ওপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে একদিকে বিশ্বব্যাপী মন্দা চলছে, খুচরা বিক্রির চাহিদা কমে গেছে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।’ বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের জায়গাটিতে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। আমাদের বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সব ধরনের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এই অসাধু কর্মকা-ের পেছনে লাইনম্যান, মিটার রিডার ও ভোক্তা, যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট বক্তৃতায় অন্যান্য বছরের মতো রপ্তানি খাতের জন্য প্রণোদনা বাবদ অর্থ বরাদ্দের কোনো ঘোষণা আসেনি। যেখানে আমাদের বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ছিল, সেখানে আমাদের সামনে বিষয়টি এখনো অজানা রয়ে গেছে। আমরা একটি অভূতপূর্ব বৈশ্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ অবস্থায় কীভাবে আমরা আমাদের অর্থনীতিকে সুরক্ষা করতে পারি, সেটি হবে আমাদের কৌশল।’

প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করা হয়েছে। এটি সম্ভব কি না, তা জানতে চাইলে ফারুক হাসান বলেন, ‘এটি সম্ভব। তবে চ্যালেঞ্জিং। কারণ গত কয়েক অর্থবছরে আমরা মাত্র ১ থেকে দেড় শতাংশ বৃদ্ধি করেছি। হুট করেই তা ৫-৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা কঠিন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পোশাকের প্রধান দুই বাজার আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে ঋণের সুদের হার অনেক বেড়েছে; মানুষের ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমেছে। আমাদের পোশাক রপ্তানির অন্যতম বৃহৎ বাজার ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি জার্মানি অফিশিয়ালি জানিয়ে দিয়েছে, দেশটি মন্দার কবলে পড়েছে। ইউরোপের অন্যান্য দেশের অবস্থাও ক্রমশ সঙিন হচ্ছে।’

বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ‘আশঙ্কার বিষয় হলো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জানুয়ারি-মার্চ মাসের আমদানি তথ্য ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের পোশাক আমদানি নভেম্বরে কমেছে ৯ দশমিক ৮৪ এবং ডিসেম্বরে কমেছে ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জানুয়ারিতে কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও ফেব্রুয়ারি এবং মার্চে আবারও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাদের রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি থাকার পরও ইউরোপ ও আমেরিকার বাংলাদেশ থেকে আমদানি ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। এটি আমাদের জন্য সত্যিই অ্যালার্মিং। আর ২০২৩ সালে বিশ্ববাজার কিন্তু আর বড় হচ্ছে না; উল্টো ছোট হয়ে যাবে। অতএব আমাদের সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত কীভাবে আমরা আমাদের বাজার ধরে রাখতে পারি।’ 

ফারুক হাসান বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে পোশাক খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা খুবই জরুরি। পোশাকশিল্পের উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে বেগবান করে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব। চলমান সংকটময় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উৎসে কর ২০২১-২২ অর্থবিছরের মতো শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ ধার্য করার দাবি জানান তিনি। এটি আগামী ৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর করার জন্য পুনরায় সরকারের সদয় দৃষ্টিও আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, ‘নগদ সহায়তার ওপর আরোপ করা ১০ শতাংশ কর প্রতাহারের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। আমরা মনে করি, এ সংকটময় সময়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হবে।’