ভারতে ওড়িশা রাজ্যের বালাশ্বরে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা থেকে মহারাষ্ট্রের চেন্নাইগামী করম-ল এক্সপ্রেসসহ আরও দুটি ট্রেন স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুর্ঘটনায় পড়লে আহত হয়েছেন অন্তত ৩০০ যাত্রী। এ ছাড়া কয়েকশ যাত্রী গতকাল রাত ১২টার সময়ও লাইনচ্যুত বগিগুলোতে আটকে পড়েছিলেন। তাই হতাহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভারতের রেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অমিতাভ শর্মা বলেন, চেন্নাইগামী করম-ল ট্রেনটি একটি মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পাশের লাইনে পড়ে যায়। এ সময় পাশের এই লাইন দিয়ে বেঙ্গালুরু থেকে আসছিল কলকাতাগামী যশবন্তপুর-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনটি এসে করম-লের পড়ে যাওয়া বগিগুলোতে সজোরে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনায় করম-লের ৩০টি বগি আর অন্য ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। মালগাড়ির পাঁচটি বগিও লাইনচ্যুত হয়েছে।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানাচ্ছে, রাজ্যটির ফায়ার সার্ভিসের প্রধান সুধাংশু সারাঙ্গীর তত্ত্বাবধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানান তিনি। সুধাংশু জানান, উদ্ধার হওয়া আহত মানুষের সংখ্যা ৩০০ জনের বেশি। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আনন্দবাজারের খবর, রাত ১২টা পর্যন্ত ৬০টি অ্যাম্বুলেন্সে করে হতাহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও কয়েকশ মানুষ পড়ে যাওয়া বগিগুলোর নিচে বা ভেতরে আটকা পড়েছিল। এনডিটিভি জানায়, যাত্রীবাহী ট্রেন করমণ্ডল এক্সপ্রেস কলকাতা থেকে চেন্নাই যাচ্ছিল। দুপুর ৩টার দিকে শালিমার স্টেশন থেকে ছাড়ে করমণ্ডল এক্সপ্রেস। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ ট্রেনটি পৌঁছায় বালাশ্বরে। কাছেই বাহানগা বাজারের কাছে মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রেনটি। সে সময় তৃতীয় একটি ট্রেন যশবন্তপুর-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসও এ দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এনডিটিভি বলছে, লাইনচ্যুত বগি থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে কাজ করছে ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিলিফ ফোর্স (এনডিআরএফ)। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যাত্রীদের বের করে আনতে তাদের সাহায্য করছেন এনডিআরএফের স্থানীয় প্রতিনিধিরা। রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী নবীন পতনায়েক দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
দুর্ঘটনার খবরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি টুইট করে বলেন, ‘ওড়িশার ট্রেন দুর্ঘটনায় আমি মর্মাহত। এ দুঃসময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। আহত ব্যক্তিরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক। পরিস্থিতি নিয়ে রেলমন্ত্রী অশ্বিন বৈষ্ণবের সঙ্গেও কথা বলেছি।’
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুর্ঘটনার পর এক টুইট বার্তায় তিনি জানান, রাজ্যের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছেন।