পেঁয়াজের দামে সেঞ্চুরির পর আমদানির অনুমতি

অবশেষে আজ সোমবার থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেবে কৃষি মন্ত্রণালয়। গতকাল রবিবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সীমিত আয়ের, শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট লাঘবসহ ভোক্তাদের স্বার্থরক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পেঁয়াজের বাজার সহনীয় করতে আমদানির বিকল্প নেই জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুই সপ্তাহ আগে চিঠি দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু দর ১০০ টাকায় পৌঁছার পর আমদানির অনুমতি দিল কৃষি মন্ত্রণালয়। রোজার ঈদের পর থেকে চড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দর। ৬০ টাকা হওয়ার পর গত ১০ মে প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ আমদানির কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তবে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই, আমদানির অনুমতি দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়। পরে দর ঢাকার বাজারে ৮০ টাকা হওয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী আবারও আমদানির কথা বলেন এবং ২১ মে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠায়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি যাওয়ার খবরে পেঁয়াজের দর কিছুটা নিম্নমুখী হয়। কেজিতে কমে ১০ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক এ নিয়ে আরও পর্যবেক্ষণ করার কথা জানান। বিপুলসংখ্যক পেঁয়াজ চাষি মুনাফা পাচ্ছেন, এটি ছিল আরও অপেক্ষার পেছনে তার যুক্তি।

কৃষি মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত না জানানোয় আবার বাড়তি দরে ফিরে যায় রান্নার উপকরণটি। এক পর্যায়ে দাম আরও বেড়ে যায়। যা গতকালের বাজারে ১০৫-১১০ টাকায় পৌঁছায়।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাড্ডা ও মহাখালী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম খুচরা ও পাইকারিতে ২২ থেকে ২৪ টাকা বেড়েছে। বাছাই করা (বড়) পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়। বাজার ব্যবধানে কোথাও কোথাও তা আবার ১১০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মাঝারি আকারের পেঁয়াজ কেজিতে ৯৪ ও ছোট আকারেরটা ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে দেশে এর চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। দেশের উৎপাদিত পেঁয়াজের পাশাপাশি ও আমদানির মাধ্যমে মসলাজাত এই পণ্যের চাহিদা মেটানো সম্ভব। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় প্রতিদিন কেজিতে ৫-৭ টাকা করে বাড়ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মসলাজাত এই পণ্যের আমদানি নিশ্চিত করতে না পারলে ঈদে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা করে কিনতে হবে।

কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সম্পদ আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে পেঁয়াজের চাহিদা অনেক। সেই তুলনায় আমাদের উৎপাদন দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। প্রতিদিন ১০০ বস্তা পেঁয়াজ দরকার। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ৬০-৭০ বস্তার বেশি পাওয়া যায় না। গত তিন দিনে ৫, ৭ ও ১০ টাকা কেজিতে বেড়েছে।

বাড্ডা এলাকার মুদি দোকানি হাসিব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত সপ্তাহে বিক্রি করা ৭০ টাকার পেঁয়াজ এখন বিক্রি করতে হচ্ছে ১১০ টাকা করে।

এদিকে লাগামহীন পেঁয়াজের দামে ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা গিয়েছে। ক্রেতারা বলছেন, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও ব্যবসায়ীরা মজুদ ঘাটতির অজুহাত দেখিয়ে পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমদানি না করতে দিলে পেঁয়াজের দাম বাড়বে। সরকার ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা করার সুযোগ করে দিয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার জন্য পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে পড়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের কেজি ৪০ টাকার ওপরে হলে তাৎক্ষণিকভাবেই সরকারের উচিত আমদানির অনুমতি দেওয়া। কয়েকদিন আগেও কৃষিমন্ত্রী বলেছেন, পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। অবশেষে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা পেরুনোর পর আমদানির সিদ্ধান্ত দিল সরকার।