কবে হবে ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ লাইন!

বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনের ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১২ সালে শুরু হলেও ১১ বছরেও শেষ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ফের ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মেয়াদ আরও চার বছর বাড়ানো হচ্ছে। এখন বর্ধিত এই চার বছর মেয়াদে বাকি কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর নির্ভর করবে কবে প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে। কারণ ২০২৪ সালের ৩০ জুনের আগে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত রেললাইন পর্যন্ত অংশটি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পাচ্ছে না। যদিও প্রকল্পটি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেকে) সভায় অনুমোদনের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রস্তাবনা সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) ২০১২ সালের ১৩ নভেম্বরের একনেক সভায় ৮৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০১২ সালের ১ জুলাই হতে ২০১৫ সালের ৩০ জুন। কিন্তু মূল প্রকল্প অনুমোদনের সময় রেললাইন, ব্রিজ, সিগন্যালিং সুবিধার বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়ন করা হয়নি। বিস্তারিত ডিজাইন প্রণয়নের লক্ষ্যে পরামর্শক সেবার সংস্থান রেখে প্রকল্প শুরুর ২ বছর পর ১ হাজার ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী অনুমোদন করা হয়। এরপর পরামর্শক নিয়োগ করে নকশা ও বিস্তারিত ক্রয় পদ্ধতি চূড়ান্ত করে দরপত্র আহ্বান করতেই প্রায় ৫ বছর সময় অতিক্রান্ত হয়। এর ফলে প্রকল্পটির মেয়াদ শুরুর ৮১ মাস পরে জয়দেবপুর-টঙ্গী অংশে ভৌত কাজ শুরু হয়।

কিন্তু কভিডের কারণে নির্মাণকাজের অগ্রগতি ব্যাহত হয়। এদিকে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত রেললাইনের ওপর দিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। তাই ঢাকা বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত রেললাইন পর্যন্ত অংশটি ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কর্তৃপক্ষ রেলওয়েকে হস্তান্তর করেনি, যা ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে হস্তান্তর করবে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত হস্তান্তর করলে কাজ শুরু করা যাবে এবং এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সিগন্যালিংসহ কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। এরপর এক বছরের ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড ২০২৬ সালের ডিসেম্বর  নাগাদ শেষ হবে। এরপর ফাইনাল পেমেন্ট, ওপেন লাইনের কাছে প্রকল্পের অবকাঠামো ও এসেট হস্তান্তর এবং পিসিআর দাখিলের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ ২ হাজার ৮২১ কোটি টাকা।

যেখানে ১১ বছরেও ঢাকা-টঙ্গী জয়দেবপুর ডুয়েলগেজ লাইনের কাজ শেষ হয়নি সেটা কী আগামী চার বছরে সম্ভব হবে কি না জানতে চাইলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রকল্পের মূল কাজ শুরু হয়েছে ২০১৯ সালে। এই সময়ে ইতিমধ্যেই ৫০ শতাংশের বেশি কাজ হয়ে গেছে। এয়ারপোর্ট থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের জন্য সেখানে কাজ করা যাচ্ছে না। তারা ২০২৪ সালের জুনে কাজ শেষ করলে আমরা ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারব।

প্রকল্পটিতে সময় এবং ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, ভালো কাজে জন্য আমরাই প্রকল্পের খরচ আরও বাড়িয়ে দিয়েছি। আশা করছি বর্ধিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে।

প্রকল্প প্রস্তাবনা সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা প্রথম ও তৃতীয় এলওসির আওতায় দিচ্ছে ভারত। বাকি ৪৫৯ কোটি টাকা সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। গত এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৬৮ শতাংশ। খরচ হয়েছে ৮১৭ কোটি টাকা।

প্রকল্পটি নেওয়ার মূল উদ্দেশ হচ্ছে, ঢাকা-টঙ্গী এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনের লাইন ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করে অধিক সংখ্যক ট্রেন পরিচালনা করা। ঢাকা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের সব মেজর করিডোরে চলাচলকারী ইন্টারসিটি ট্রেন, মালবাহী ট্রেন ও কন্টেইনার ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা। দৈনিক যাত্রীদের জন্য কমিউটার/সিটি ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা এবং যার মাধ্যমে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নগর পরিবহন উন্নত করা। লেভেল ক্রসিং গেইটসমূহে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা। ট্রেনভেদে যাত্রাসময় ২০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা হ্রাস করা এবং রেলওয়ে স্টেশনসমূহে উন্নততর যাত্রী সুবিধাদি প্রদান করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা।

প্রকল্পটি নেওয়ার বিষয়ে প্রস্তাবনায় বলা হয়, ঢাকা-টঙ্গী-জয়দেবপুর গুরুত্বপূর্ণ সেকশনটি রাজধানী ঢাকাকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে এবং এটি রিজিওনাল ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশও বটে।