বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাহারায় পুলিশ

ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। দফায় দফায় বিদ্যুৎ থাকছে না বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সবখানেই। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা; বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে একটি মহল পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের কাছে তথ্য এসেছে। ওই তথ্য পেয়ে পুলিশ সদর দপ্তর নড়েচড়ে বসেছে। পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ শীর্ষ কর্তারা বৈঠক করেছেন। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গতকাল সোমবার পুলিশের সব কটি রেঞ্জ অফিস ও ইউনিট প্রধানদের কাছে বিশেষ নির্দেশনা পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এদিকে, বিশেষ বার্তা পেয়ে ইউনিটপ্রধান, রেঞ্জ ডিআইজি ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তা দিতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুতের সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে সরকার নানাভাবে চেষ্টা করছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে আশা করছি। এরই মধ্যে যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে আমরা সতর্ক আছি। বিদ্যুৎ স্টেশনগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনা হচ্ছে। এ জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গতকাল পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পুলিশের সব ইউনিট, রেঞ্জ ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের কাছে বিদ্যুৎ স্টেশনে নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি নজরদারি বাড়াতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একটি মহল লোড়শেডিংয়ের অজুহাত তুলে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। যেসব এলাকায় বেশি বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে তারও একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে।’ কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপার গতকাল দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, পুলিশ সদর দপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর তারা বিশেষ বৈঠক করেছেন। এলাকায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে তা সত্য। এ জন্য তারা বেশ সতর্ক আছেন। বিদ্যুৎ অফিস ও স্টেশনগুলোর বিষয়ে থানার ওসিদের দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, লোডশেডিংয়ের অজুহাত তুলে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে একটি বিশেষ মহল। এই আশঙ্কার তথ্য পেয়ে নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতনরা। এরপর প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বাড়তি পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে থানার ওসিদের নানান দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন জেলার পুলিশ সুপাররা। এমনকি বাড়তি ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

বিদ্যুৎ অফিসের পাশাপাশি ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলতে ডিএমপির ৫০ থানার ওসিদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিদ্যুৎ সমস্যা নিয়ে যাতে কেউ অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে না পারে, সে জন্য আমরা সতর্ক আছি।’ বিদ্যুৎ স্টেশনগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো বাড়তি নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে সবাইকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎসহ যেকোনো সমস্যা নিয়ে কোনো মহল যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেই জন্য বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছে। আশা করি বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটবে না। তারপরও পুলিশ সতর্ক আছে।’

সূত্র জানায়, তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে দেশের মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। দিনের পর দিন অসহনীয় কষ্ট সহ্য করতে না পেরে অনেকেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র, বিদ্যুৎ অফিস, সাবস্টেশনসহ কেপিআই স্থাপনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। গোয়েন্দা কার্যক্রম ও পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে।