১৪ দলের সমাবেশে আমু

জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বিএনপির সঙ্গে বৈঠকে রাজি

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪-দলীয় জোটের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বৈঠকে বসতে রাজি আছেন তারা। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে সব সময়ই নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের বর্ষীয়ান নেতা আমির হোসেন আমুর আলোচনার প্রস্তাব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে ১৪ দল আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন আমু। বিএনপি-জামায়াত অপশক্তির দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র এবং দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জনসভা করে কেন্দ্রীয় ১৪ দল। জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি (একাংশ)-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ।

আমির হোসেন আমু বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি আসুক। বগল বাজানোর কোনো সুযোগ নেই, বাহাবা দেওয়ার সুযোগ নেই। ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করার ফন্দিফিকির গতদিনেও (অতীতে) আপনারা করেছেন। আজকেও করার অপচেষ্টা করছেন।

১৪ দলের সমন্বয়ক বলেন, বিগত সময় যেমন জাতিসংঘ তারানকো সাহেবকে পাঠিয়েছিলেন, আমাদের দুই দলকে একসঙ্গে নিয়ে মিটিং করে বুঝেছিলেন। আজকেও প্রয়োজনে এ ধরনের গড়াগড়ি না করে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদল আসুক। আমরা বিএনপির সঙ্গে মুখোমুখি বসে আলোচনা করে দেখতে চাই।

আমু বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন করার বাধা কোথায়? কীভাবে সেটা নিরসন করা যায়। এটা আলোচনার মধ্য দিয়েই সুরাহা হতে পারে, অন্য কোনো পথে নয়। অন্য কোনো পথে চেষ্টা করে নির্বাচন বানচাল করে অসাংবিধানিক অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়, অসাংবিধানিক জিনিস আনতে চায়, তাদের প্রতিহত করা হবে।

১৪ দল ঐক্যবদ্ধভাবে জোটনেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যেমনিভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছিল, আগামী দিনেও সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখবে বলে জানান আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেটাকে অব্যাহত রাখতে হবে। কথা বেশি বাড়ানোর সুযোগ নেই। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সংবিধানের ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংবিধানকে সামনে রেখে যেকোনো সমাধান, যেকোনো কিছু করতে আমরা প্রস্তুত। আপনারা আসুন। এগিয়ে আসুন। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে, গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে আপনাদের সঙ্গে বসতে রাজি আছি। আলোচনার দ্বার খোলা। শেখ হাসিনা প্রত্যয় ঘোষণা করেছেন যেকোনো অবাধ, ‍সুষ্ঠু নির্বাচন করতে তিনি প্রস্তুত।

বিএনপির উদ্দেশে আমু বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করলেন কিন্তু সফল হলেন না। তিনি বলেন, ‘এবার নানা রকম অজুহাত তুলছেন। বিদেশিদের কাছে নানা রকম সাহায্য-সহযোগিতা চাচ্ছেন। ভিসানীতিকে আশ্রয় করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। ভিসানীতি কী, বৃক্ষ তোমার নাম কী ফলেই পরিচয়। আজকে এটা বলার প্রয়োজন নেই। যখন এ বৃক্ষের ফল পড়বে, তখন দেখা যাবে এ বৃক্ষ কী, তখন আপনারা সবাই উপলব্ধি করবেন।’