ট্রাম্পের সামনে বন্দিত্বের হাতছানি!

নব্বইয়ের দশকে এক নারীকে যৌন আক্রমণ করার জন্য সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করে ম্যানহাটনের একটি আদালত। ধর্ষণের দায় থেকে রক্ষা পেলেও ওই নারীর অভিযোগ একেবারেই মিথ্যে, দাবি করায় মানহানির অভিযোগে ট্রাম্পকে ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করে আদালত। এর কিছুদিন আগেই গত ৩০ মার্চ নিউইয়র্কে আরেক মামলায় একজন পর্নো তারকাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য অর্থ দেওয়ার দলিলপত্র জালিয়াতির দায়ে ট্রাম্প অভিযুক্ত হন। এবার ট্রাম্প আরেকটি গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়লেন। হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি নিজের কাছে রেখে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি গোপনীয় নথি নিজের কাছে রেখে দেওয়াসহ ট্রাম্প (৭৬) সাতটি অভিযোগের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা বিবৃতি, বিচারে বাধা এবং গুপ্তচরবৃত্তি আইনের অধীনে অবৈধভাবে গোপনীয় নথি ধরে রাখা।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে মিয়ামির ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে। সেখানে তাকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানি হতে পারে। আসলেই বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে আছেন ট্রাম্প। এমনকি তাকে জেলেও যেতে হতে পারে, এমন আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। গোপনীয় নথির মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর ট্রাম্পের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে বিশ্লেষণী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

“ট্রাম্প কি জেলে যেতে পারেন? গোপনীয় নথি বিষয়ে আনা ফেডারেল অভিযোগ সে রকম পরিস্থিতিই হয়তো তৈরি করছে’ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনের শুরুতেই এক বাক্যে বলা হয়েছে, ‘তিনি সত্যিই হয়তো জেলে যেতে পারেন।’

গার্ডিয়ান বলছে, ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে বেশ এক চাপে ফেলে দিলেন। এ যেন রাষ্ট্রটির জন্যই এক পরীক্ষা, যে পরীক্ষায় একজন সাবেক প্রেসিডেন্টকে দোষী সাব্যস্ত করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ ঘটাতে হবে। এ রকম হয়েছিল সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের বেলায়, যাকে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এদিকে সিএনএনও ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ ঝরঝরে বললেও তাকে এখনই জেলে যেতে হবে, এমনটা মনে করছে না। সিএনএনের বিশ্লেষক জাশারি বি. উলফ তার প্রতিবেদনে কয়েকটি প্রশ্ন এবং উত্তর লিখেছেন। ‘ট্রাম্পের কখনো জেল হতে পারে?’ নিজের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সম্ভাব্য পরিণতি বিষয়ে এই প্রশ্ন তুলে উত্তরে তিনি লিখেছেন, ‘ আমরা একটু বেশি এগিয়ে যাচ্ছি, তার এখনো বিচার হয়নি, কেবল অভিযুক্ত হয়েছেন তিনি।’ ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির আইনের অধ্যাপক রিচার্ড হাসেন সিএনএনের প্রতিবেদককে বলেন, ‘ট্রাম্পকে কারাগারে নিলে সিক্রেট সার্ভিসকে (যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান-সাবেক প্রেসিডেন্টদের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্র্তৃপক্ষ) প্রচুর ঝামেলা পোহাতে হবে।’ এই প্রতিবেদনে কারাগারের বিকল্পও হাজির করা হয়েছে। অতীতের দৃষ্টান্ত দিয়ে সিএনএন জানায়, ইতিহাস বলছে দোষী সাব্যস্ত শীর্ষস্থানীয়রা কারাবাস এড়াতে ভিন্ন পথ পেয়েছেন। যেমন কেলেঙ্কারিতে দোষী সাব্যস্ত সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের কাছ থেকে ক্ষমা পেয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট স্পাইরো এগনিউ দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত কারাবাস এড়াতে সমঝোতা করেছিলেন। এরও বহু আগে আরেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরোন বার দেশদ্রোহের অভিযোগ থেকে অল্পের জন্য রেহাই পেয়ে দেশ ছেড়েছিলেন।

যদিও রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথির ব্যাপারটি বেশ স্পর্শকাতর।  এ ছাড়া ট্রাম্পের সামনে আরেকটি বড় আইনি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি জো বাইডেনের জয় অস্বীকার করে ক্যাপিটল হিলে চালানো দাঙ্গায় সংশ্লিষ্টতা থাকার দায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হতে পারেন ট্রাম্প।