রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথির মামলায় অভিযুক্ত ট্রাম্প

বিধিবহির্ভূতভাবে সরকারি গোপনীয় নথি নিজের কাছে রেখে দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, হোয়াইট হাউজ ছাড়ার পর রাষ্ট্রীয় গোপনীয় নথি নিজের কাছে রাখাসহ সাতটি অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন এই রিপাবলিকান নেতা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অবশ্য ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও এ বিষয়ে পোস্ট দিয়ে বলেছেন, ‘আমি একজন নির্দোষ মানুষ!’

বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের দায়ের করা এই ফৌজদারি মামলাটি আগামী বছর দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে নামা ট্রাম্পের জন্য আরেকটি ধাক্কা। তিনি ইতিমধ্যেই নিউইয়র্কে আরেকটি ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আছেন। এ নিয়ে দ্বিতীয় একটি মামলায় অভিযুক্ত হলেন ট্রাম্প; যা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সাবেক প্রেসিডেন্টের ফেডারেল অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার প্রথম ঘটনা।

গত বছর ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে তল্লাশি চালিয়ে ১১ হাজারের বেশি সরকারি নথি ও ছবি জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)। যার মধ্যে ১৮টি ‘অতি গোপনীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ৫৪টিকে রাখা হয় ‘গোপনীয়’ ক্যাটাগরিতে। আরও ৩১টি নথিকে ‘গোপনভাবে রক্ষিত’ হিসেবে উল্লেখ করে সংস্থাটি। ওই ঘটনায় এফবিআই ফেডারেল আদালতে মামলা করে। যার তদন্ত করছেন বিশেষ কৌঁসুলি জ্যাক স্মিথ।

ট্রাম্পের আইনজীবী জিম ট্রাস্টি সিএনএনকে জানিয়েছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট একটি সমন পেয়েছেন, তাতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিবরণ আছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ষড়যন্ত্র, মিথ্যা বিবৃতি, বিচারে বাধা এবং গুপ্তচরবৃত্তি আইনের অধীনে অবৈধভাবে গোপনীয় নথি ধরে রাখা আছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে অভিযোগের মূল নথিটি এখনো সিল করা অবস্থায় আছে। এতে কী বলা হয়েছে, তা ট্রাম্প নিজেও এখন পর্যন্ত দেখেননি।

একটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য যে সমন পাঠানো হয়েছে, তাতে তার বিরুদ্ধে আনা সাতটি অভিযোগের বিষয়ে তার আইনি টিমকে অবহিত করা হয়েছে।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে মিয়ামির ফেডারেল আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাকে তলব করা হয়েছে। সেখানে তাকে গ্রেপ্তার এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের শুনানি হতে পারে।

নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কখনো ভাবিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন সাবেক প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এ ধরনের কিছু হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি অন্ধকার দিন। আমাদের দেশ গুরুতর ও দ্রুত পতনের মধ্যে আছে, কিন্তু আমরা সবাই মিলে আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলব!’

চলতি বছরের শুরুতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বাড়িতেও বেশ কিছু গোপন নথির সন্ধান পায় এফবিআই। যার মধ্যে ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় বাইডেন যে কাজগুলো করেছিলেন তার নথি। যদিও হোয়াইট হাউজ জানায়, বাইডেনের বাড়ি থেকে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা ক্লাসিফায়েড বা গোপনীয় হিসেবে উল্লেখ করা ছিল। তবে বেশ কিছু নথি ও হাতে লেখা নোট, যা বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে লিখেছিলেন, তা পর্যালোচনার জন্য সংগ্রহ করেছে তদন্তকারীরা।