আগে পদত্যাগ পরে সংলাপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার হলো মিথ্যাবাদী সেই রাখাল বালকের মতো। জনগণের কাছে ওয়াদা করে তা রক্ষা করে না। তাই সরকারের কোনো কথা আমরা শুনতে চাই না। আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং পরে সরকারের সঙ্গে সংলাপ হতে পারে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

‘যখন নির্বাচন চলবে, নির্বাচন কমিশনের সেই ক্ষমতা থাকবে যে, তখন আর কাউকে  গ্রেপ্তার করা যাবে না বা কাউকে আটক করা যাবে না।’ জাতীয় সংসদে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাদের কথা কে বিশ্বাস করবে? তাদের অবস্থা সেই রাখাল বালকের গল্পের মতো। দুইবার রাখাল বালকের চিৎকারে গ্রামবাসী এগিয়ে এলেও তৃতীয়বার আসেনি। আজ আমাদের অবস্থা গ্রামবাসীর মতো। দুইবার প্রতারণার শিকার হয়েছি। এবার আর দেশের মানুষ প্রতারণার শিকার হবে না।’

‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ডেড ইস্যু’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এরকম বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, “নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ‘ডেড’ নয়, এখন ‘লাইফ’ ইস্যু। কারণ জনগণ মনে করে যে, এই সরকারের এই মুহূর্তে পদত্যাগ করা উচিত। সরকার দুর্নীতি আর লুটপাট করেছে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেনি। এ অবস্থায় সরকারের ক্ষমতায় থাকার সুযোগ নেই। সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের যে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা, নির্বাচনীব্যবস্থা তা সরকার পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। কারণ তারা জানে যে, তারা এত চুরি-চামারি করেছে যে, সাধারণভাবে যদি ‍সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচন হয় তাহলে কোনো দিনই তারা ক্ষমতায় ফিরে আসা দূরে থাকুক, পার্লামেন্টে ১০ ভাগেরও বেশি ভোট পাবে না।’

তিনি বলেন, ‘এতদিন সরকার বেশি বেশি উন্নয়নের কথা বলেছে। তাদের কথায় খৈ ফুটেছে। তখন আমরা বলেছিলাম গণতন্ত্রবিহীন উন্নয়ন কখনো উন্নয়ন হতে পারে না এটা টেকসই নয়। এটা ভেঙে যাবে। আজ আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলো তাদের প্রতিবেদনে বলছে যে বাংলাদেশের সরকার ইতিপূর্বে যে সমস্ত দাবি করেছে সেই দাবিগুলো যে কতটা ঠুনকো ছিল তা ক্রাইসিসে যখন বাংলাদেশ পড়েছে তখন সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি এখন আন্ডারগ্রাউন্ডে। কারণ সব ক্ষেত্রে নজিরবিহীন দুর্নীতি আর লুটপাট।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার এখন নির্বাচনী ফান্ড তৈরির চেষ্টা করছে। যেখানে বিমান চলতে পারে না, সেখানে বোয়িং না কিনে এয়ারবাস কেনা হচ্ছে। কারণ এয়ারবাস কিনলে কমিশন পাওয়া যাবে। বোয়িং কিনলে কমিশন পাওয়া যাবে না। এর মাধ্যমে দুর্নীতি হবে। তারা নির্বাচনী ফান্ড তৈরি করবে। এতে যেমন নির্বাচনে কাজে লাগবে তেমনি নিজেদের পকেটও ভরবে।’

বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে প্রয়াত গৌতম চক্রবর্তীর সম্পৃক্ততা দেখে সংগঠনের নেতাকর্মীদের চলমান আন্দোলনে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার ও মহাসচিব তরুণ কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, তপন চন্দ্র মজুমদার, সুশীল বড়ুয়া, ভাইস চেয়ারম্যান অর্পণা রায়, নিতাই চন্দ্র ঘোষ, রমেশ দত্ত, প্রয়াত নেতার ছেলে গৌরব চক্রবর্তী প্রমুখ। এ সময় গৌতম চক্রবর্তীর সহধর্মিণী ও ফ্রন্টের উপদেষ্টা দিপালী সাহা চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।