১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের শীতল যুদ্ধের কেন্দ্রে চলে এসেছিল কিউবা। ইতিহাসে সেই অধ্যায় ‘কিউবা মিসাইল ক্রাইসিস’ নামে পরিচিত। যদিও এসব এখন অতীত। কিন্তু বিশ্ব এখন আরেকটি শীতল যুদ্ধ দেখছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ পরাশক্তি চীন। আর এবারের অঘোষিত এ শীতল যুদ্ধেও জড়িয়ে যাচ্ছে কিউবার নাম। চীন কিছুদিন ধরেই কিউবা থেকে গোয়েন্দাগিরি করছে এবং সেখানে তাদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগ-সুবিধাকে আরও অত্যাধুনিক করেছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা। কিউবাকে ঘিরে চীনের গোয়েন্দাগিরির নতুন প্রচেষ্টা চলমান ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এমন এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা এসব জানান।
গত বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফ্লোরিডা থেকে মাত্র ১৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দ্বীপদেশটিতে একটি ইলেকট্রনিক ইভসড্রপিং (আড়ি পাতা) কেন্দ্র স্থাপনে চীন কিউবার সঙ্গে একটি গোপন চুক্তিতে পৌঁছায়। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এ ধরনের গুপ্তচর স্থাপনা তৈরি করা গেলে দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইলেকট্রনিক যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করার সক্ষমতা চীনের হাতে চলে যাবে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সরকার উভয়েই ওই প্রতিবেদনের ব্যাপারে ঘোরতর সন্দেহ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাইডেন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘গণমাধ্যম যা বলছে, ‘তা আমাদের জানা-বোঝার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ তবে প্রতিবেদনটির কোথায় ভুল আছে কিংবা চীন কিউবায় আড়ি পাতার কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করছে কি না, তার বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এটি চলমান সমস্যা এবং নতুন কোনো ঘটনা নয়। পিআরসি (পিপলস রিপাবলিক অব চায়না) ২০১৯ সালে কিউবায় তার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের অবকাঠামোগুলোর একটি আপগ্রেড করেছে। এ বিষয়টি গোয়েন্দা রেকর্ডে বেশ ভালোভাবেই নথিভুক্ত আছে।’
ওয়ালস্ট্রিটের ওই প্রতিবেদনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় চীন বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ‘গুজব ও অপবাদ ছড়ানোর’ চেষ্টা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। কিউবার সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও ওই প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেন।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমায় চীনা গুপ্তচর বেলুন ভূপাতিত করা নিয়ে বিশ্বের দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই উত্তেজনা এখনো বিদ্যমান রয়েছে এবং তা প্রশমিত করার জন্য ওয়াশিংটন ও বেইজিং অস্থায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে রিপোর্ট আসার মধ্যেই এই চুক্তির খবরটি সামনে এলো। রয়টার্স বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন আগামী ১৮ জুন চীন সফর করার পরিকল্পনা করছেন। যদিও গুপ্তচর বেলুনের সেই ঘটনায় ওয়াশিংটনের শীর্ষ এই কূটনীতিক এর আগে দেশটিতে সফর বাতিল করেছিলেন।