জীবিত হওয়ার আশায় ৬ দিন খাটের নিচে লাশ

নরসিংদীর মনোহরদী পৌর এলাকায় ‍মৃত স্ত্রীর পুনরায় জীবিত হওয়ার আশায় খাটের নিচে ছয় দিন লাশ রেখে স্বাভাবিকভাবেই বাড়িতে বাস করছিলেন স্বামী ও চার মেয়ে। এদিকে লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশ খবর পেয়ে গত শনিবার রাতে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে খাটের নিচ থেকে অর্ধগলিত লাশটি উদ্ধার করে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মনোহরদী পৌরসভার বাজারের পাশেই নিজেদের বাড়িতে বাস করতেন অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক মোক্তার উদ্দীন তালুকদার (৬৮), তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা নাজমা (৫৫), মেয়ে মাহবুবা তালুকদার (৪০), রোকসানা তালুকদার (৩৪), আফরোজা তালুকদার (২৮) ও নিষাদ তালুকদার (২৫)। তারা সবাই এক পীরের ভক্ত ছিলেন। প্রতিদিন রাত ৩টা থেকে ভোর পর্যন্ত জিকির করতেন। নিজেরাই বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতেন। এসব নিয়ে প্রতিবেশীরা তাদের জিজ্ঞেস করলে কোনো সদুত্তর দিতেন না।

শামীমা সুলতানা তার পরিবারের সদ্যদের বলে গিয়েছিলেন তিনি কখনো মারা গেলে তার লাশ রেখে যেন অপেক্ষা করা হয়। তিন থেকে চার দিন পর তিনি পুনরায় জীবিত হবেন। গত সোমবার শামীমা মারা গেলে তার পরিবারের সদ্যরা বিষয়টি কাউকেই জানায়নি। তারা সবাই শামীমার জীবিত হওয়ার আশায় লাশ খাটের নিচে রেখে অপেক্ষা করতে থাকেন।

এদিকে প্রতিবেশীরা দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে দেখতে পায় তারা সবাই ঘরেই অবস্থান করছেন। এ সময় খাটের নিচ থেকে নাজমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর পরিবারের সদস্যদের থানায় আনার পর তাদের মনোহরদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, ‘থানা থেকে তাদের রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। রক্তচাপ বেশি থাকায় আমরা তাদের চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের শারীরিকভাবে অন্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।’

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দীন বলেন, ‘জিকির অবস্থায় নাজমার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে তারা। আমরা নিহতের স্বামী, চার মেয়ে, দুই নাতি ও এক নাতনিকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। আর এটি স্বাভাবিক মৃত্যু কি না তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পর বলা যাবে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’