জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড রিটার্নসের (জিইএআর) প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া নারীরা ৪০ শতাংশ বেশি আয় করছে। এ ছাড়া প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ নারী তাদের কর্মক্ষেত্রে সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং ব্র্যাক জেপিজি এসপিএইচ-এর সহযোগিতায় রাজধানীর এক হোটেলে বেটার ওয়ার্কসের জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড রিটার্নস (জিইএআর) অনুষ্ঠানে এ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য মিলেছে। প্রতিবেদনটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের ২৭টি তৈরি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিকদের নিয়ে পরিচালিত করা হয়েছে। এ সময় লিঙ্গ সমতা নিয়ে ইতিবাচক ফলাফল প্রদর্শন করা হয়েছে।
পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপনা খাতে মহিলাদের প্রশিক্ষণ সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দক্ষতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি একটি গবেষণা করেছে আইএফসি ও আইএলও।
এইচ অ্যান্ড এম, এম অ্যান্ড এস, লেভি’স, রালফ লরেন এবং ভিএফ করপোরেশনের মতো গ্লোবাল পোশাক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বে জিইএআর প্রশিক্ষণ পর্বে সবার অংশগ্রহণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে জিইএআর ৭৮টি কারখানায় ৬০০ বেশি মহিলা কর্মীকে কারিগরি দক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনা ভূমিকায় প্রশিক্ষণ করে যাচ্ছে। প্রতিবেদনটিতে দেখা যায়, প্রতি দশজনের মধ্যে নয়জন অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণটি সম্পন্ন করেছে এবং তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ নারী তাদের কর্মক্ষেত্রে সুপারভাইজার হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছে। এ ছাড়া দেখা যায়, প্রশিক্ষণ প্রার্থীরা অর্জিত দক্ষতার সঙ্গে ৪০ শতাংশ বেশি আয় করছে এবং ব্যবস্থাপনা খাতে আরও পদোন্নতি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক; বিজিএমইএর ডিরেক্টর ফয়সাল সামাদ; এইচ অ্যান্ড এমের সোশ্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রদীপ গ্যাব্রিয়েল প্রমুখ।
ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিকসের অধ্যাপক ক্রিস্টোফার উডরাফ বলেন, ‘জিইএআরের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারভাইজাররা ৪ শতাংশ বেশি দক্ষতার সঙ্গে তাদের কাজ তদারকি করেছে যার ফলাফলস্বরূপ কারখানার প্রতি লাইনে বার্ষিক ৫ হাজার ডলার এবং ২০ লাইনের একটি কারখানায় বার্ষিক ১ লাখ ডলার সঞ্চিত হয়েছে।’