বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ , সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় সদস্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইইউয়ের ভূমিকার প্রত্যাশা করা হয়।
গত সোমবার ইউরোপীয় কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেপ বোরেলের কাছে এই চিঠি লেখা হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভান স্টেফানেক, মাইকেলা সোজড্রোভা, আন্দ্রে কোভাতচেভ, কারেন মেলচিওর, জাভিয়ের এনএআরটি এবং হেইডি হাউটালা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, এটি ছয় সংসদ সদস্যের লেখা এবং এখানে তাদের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করা হয়েছে। এই চিঠি সম্পর্কে ব্রাসেলসের একজন কূটনীতিক জানান, ‘ওই চিঠি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিজস্ব একটি কমিউনিকেশন এবং এটি আমাদের কাছে লেখা হয়নি। ফলে এটির কোনো গুরুত্ব নেই আমাদের কাছে।’ তিনি বলেন, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ৭০০-এর বেশি সংসদ সদস্যের মধ্যে ছয় জন তাদের নিজস্ব মতামতে কী লিখল সেটি কোনো বিষয় নয়। এরকম চিঠির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ নিয়ে সংসদ সদস্যরা তাদের নিজস্ব মতামত ইইউকে জানিয়ে থাকেন।’
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করার কারণে সেটি অংশগ্রহণমূলক ছিল না। পরবর্তী সময়ে ১১তম নির্বাচন মধ্যরাতের নির্বাচন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। যা আগের রাতে সমাপ্ত হয়েছিল। তারই ফলস্বরূপ নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে সামান্য ম্যান্ডেট পায়নি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনুমোদন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে চাই এবং বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানাই। আমরা দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিতে চাই, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ অথবা আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চিঠিতে সদস্যরা লিখেছেন, বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি একটি সমস্যা। কারচুপি, কারসাজি এবং ভোটারদের অনুপস্থিতি দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
চিঠিতে জোসেপ বোরেলকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, আমরা আপনাকে বাংলাদেশে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়া মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং চলমান সংকটের টেকসই ও গণতান্ত্রিক সমাধান খুঁজে বের করতে বিএনপিসহ অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায়। এতে নাগরিকদের জন্য গণতান্ত্রিক অবস্থান সংকুচিত হয়েছে। ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিচ্ছে সরকার।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণœ হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের পর থেকে। র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে র্যাব দ্বারা হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।