জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের কাছে চিঠি লিখেছেন দেশটির ছয়জন কংগ্রেস সদস্য। চিঠিতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কামনা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার ওই চিঠি পাঠানো হয় বলে কংগ্রেস সদস্য উইলিয়াম আর কিটিং গত মঙ্গলবার এক টুইটে জানিয়েছেন।
চিঠি পাঠানো ছয় কংগ্রেস সদস্য হলেন উইলিয়াম আর কিটিং, জেমস পি ম্যাকগভার্ন, বারবারা লি, জিম কস্টা, ডিনা টাইটাস ও জেমি রাসকিন। তারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন এগিয়ে আসায় মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। এটি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিতে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং ইউনিটটির তৎকালীন, বর্তমান ও সাবেক সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়ে এই ছয় কংগ্রেস সদস্য চিঠিতে লিখেছেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে এরপরও বাংলাদেশে দমন-পীড়ন কমেনি। এ পরিস্থিতিতে সুশীল সমাজ সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন তারা। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ আছে কি না, তা পররাষ্ট্র দপ্তর কীসের ভিত্তিতে পর্যালোচনা করবে, তাও জানতে চেয়েছেন কংগ্রেস সদস্যরা।
এর আগে মার্কিন কংগ্রেসের আরও ছয় সদস্য প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে লেখা চিঠিতে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের মানুষ যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, সে সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রেসিডেন্টকে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান। এ জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং দায়ী ব্যক্তিদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ করেন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টির এই সদস্যরা।