যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানিতে পোশাক রপ্তানিতে ভাটা

বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যেখান থেকে পোশাক রপ্তানি আয়ের অর্ধেক আসে। একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্রেতা জার্মানি। চলতি অর্থবছরে এ দেশটি থেকে আয় কমতে শুরু করেছে। রপ্তানি কমতে শুরু করেছে একক দেশ হিসেবে পোশাকের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র থেকেও। সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়লেও শীর্ষ দুটি দেশে আয় কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পোশাক ব্যবসায়ীরা। যদিও এ সময় ইউরোপের অন্যান্য দেশ ও অপ্রচলিত বাজারে আয় বেড়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইপিবি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-মে মাস পর্যন্ত দেশভিত্তিক রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে। এই সময়ে মোট পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৬৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধিসহ ৪ হাজার ২৬৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। মোট পোশাক রপ্তানির মধ্যে ২ হাজার ১২২ কোটি ডলারের পোশাক (মোট রপ্তানির ৪৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ) ইইউর বাজারে গেছে।

একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে বাংলাদেশ থেকে ৮১৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ডামাডোলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দেখা দেওয়ায় পোশাক কেনা কমিয়ে দিয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। এর ফলে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৭৩ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৮ দশমিক ১৪ শতাংশ এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

একই সময়ে ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে জার্মানিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৬০৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৬৫০ কোটি ডলার। জার্মানি ছাড়াও ইইউভুক্ত দেশ পোলান্ড থেকে রপ্তানি আয় কমেছে ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে পোলান্ডে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৫৩ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৮২ কোটি ডলার।

অবশ্য শীর্ষ দুই ক্রেতাদেশে রপ্তানি কমলেও পোশাকের অন্য বাজারগুলোতে বাংলাদেশের আয় আরও বেড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। এটি বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য, যেখানে ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ের তুলনায় ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। এ সময় ইইউতে পোশাক রপ্তানি ১ হাজার ৯৩০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২ হাজার ১২২ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে পোশাকের সামগ্রিক রপ্তানি আয়ে এখনো প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে বাংলাদেশ।

চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে যুক্তরাজ্যে পোশাকের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ শতাংশের বেশি। এ সময় দেশটি থেকে তৈরি পোশাক রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৫৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪০৯ কোটি ডলার। এ সময়ে পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাজ্যের হিস্যা ছিল ১০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অপর দুই বড় ক্রেতা ফ্রান্স এবং ইতালিতেও রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত সময়ে ফ্রান্সে রপ্তানি হয়েছে ২৬৬ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ইতালিতে রপ্তানি হয়েছে ২০৬ কোটি ডলারের পোশাক, যেটি আগের বছরের একই সময়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি বেড়েছে কানাডায়ও। উল্লিখিত সময়ে কানাডায় পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৩৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কানাডার শেয়ার ছিল ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে আমাদের পোশাকের রপ্তানি ৩২ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় অপ্রচলিত বাজারে ৭৬৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৭৯ কোটি ডলার। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে ৪৫ দশমিক ৮ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া ৪১ শতাংশ, ভারত ৪৬ শতাংশ, মালয়েশিয়া ৫১ শতাংশ, মেক্সিকো ২৯ শতাংশ ও ব্রাজিলে রপ্তানিতে ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। অবশ্য এ সময়ে অপ্রচলিত বাজার রাশিয়া ও চিলিতেও রপ্তানি কমেছে। চলতি অর্থবছরের মে পর্যন্ত দেশ দুটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৮২ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশের পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা ছিল ১৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।