রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য প্রস্তুত নির্বাচন কমিশন। আজ সকাল থেকে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবারে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠের হিসাব বলছে, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন আবারও মেয়র নির্বাচিত হচ্ছেন সহজভাবেই। তবে, ভোট জমবে কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোটে। সবখানেই কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার আভাস মিলছে। আর সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে এক ওয়ার্ডে একাধিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী।
রাজশাহীর ৩০টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ২৯টিতে লড়ছেন ১১১ জন প্রার্থী। ২০ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে একজন প্রার্থী রয়েছেন। রবিউল ইসলাম সেখানে একমাত্র প্রার্থী থাকায় সাধারণ কাউন্সিলর পদে ভোট হচ্ছে না। এছাড়া সংরক্ষিত ১০টি আসনের বিপরীতে ৪৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। ২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৮টিতেই আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। শুধুমাত্র ২২ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছেন আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী। সব থেকে বেশি আওয়ামী লীগ প্রার্থী রয়েছেন ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে। এখানে মোট ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনই আওয়ামী লীগ দলীয়। ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট ১১১ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯ জন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের ১০টি পদে ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের মধ্যে ৩৮ জনই আওয়ামী লীগ দলীয়।
নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে সোমবার। মেয়র পদে চারজন প্রার্থী আওয়ামী লীগের এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, জাতীয় পার্টির সাইফুল ইসলাম স্বপন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুরশিদ আলম এবং জাকের পার্টির লতিফ আনোয়ার থাকলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইতিমধ্যে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। গত ২ জুন থেকে ভোটের প্রচারণা শুরুর পর থেকে শেষ পর্যন্ত অন্য প্রার্থীর তেমন জোরালো প্রচারণা দেখা যায়নি। তবে নৌকার প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটন প্রতিদিনই দুই বেলা গণসংযোগ করেছেন, শহরজুড়ে হয়েছে মাইকিং, পুরো নগরী ছেয়ে গেছে নৌকার পোস্টার আর ব্যানারে। দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী নৌকার প্রচারে অংশ নেন।
মেয়র পদে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করেন কি না জানতে চাইলে সোমবার খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মনে হয় না। কারণ কী জানতে চাইলে লিটন বলেন, তাদের সেভাবে কর্মী-সমর্থক নেই। এছাড়া নির্বাচনের প্রচার চলাকালেও তাদের তেমন কার্যক্রম দেখা যায়নি। তবে আমার মনে হয় নির্বাচন উৎবমুখর হবে এবং বেশ জমমজাট হবে। কারণ, কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস রয়েছে। একই কারণে ভোটার উপস্থিতিও ভালোই হবে বলে মনে করেন তিনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য যা যা করণীয় সবকিছু করা হয়েছে। ভোটাররা উৎসাহ নিয়ে কেন্দ্রে আসবেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি।