কোটি টাকা চাঁদাবাজি মামলার বাদী বললেন 'আমি আসামিদের চিনি না'

মামলার তদন্তে কোটি টাকা চাঁদা দাবির সত্যতা পেয়ে নগর ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। আসামিদের বিচার শুরুর পর বুধবার (২১ জুন) আদালতে সাক্ষ্য দিতে আসেন বাদী কুয়েত প্রবাসী ব্যবসায়ী বন্ধন নাথ। কিন্তু তিনি আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, "আমি আসামিদের চিনি না। মামলাও চালাতে চাই না।" চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শামসুল আরেফিনের আদালতে সাক্ষ্য দেন তিনি।

২০১৮ সালে চাঁদাবাজির শিকার হয়েছিলেন বন্ধন নাথ। ঘটনার দিন ৭০ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েই আসামিরা ক্ষান্ত হয়নি, তার পিঠে গুলিও চালায়। সেসময় এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পাঁচলাইশ এলাকায় জমি কিনে ভবন নির্মাণ করেন এই প্রবাসী।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৎকালীন সভাপতি দেবাশীষ নাথকে প্রধান আসামি করে পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করেন বন্ধন নাথ। মামলার অপর আসামিরা হলেন-নগর ছাত্রলীগের সাবেক অর্থ সম্পাদক আবু নাছের চৌধুরী, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য এ টি এম মঞ্জুরুল ইসলাম, নগরের শুলকবহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম নাজমুল আহসান এবং যুবলীগের কর্মী ইদ্রিস মিয়া ও ইমরান হোসেন।

তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের অক্টোবরে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন পাঁচলাইশ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) বর্তমানে নগরের আকবর শাহ থানার ওসি মোহাম্মদ ওয়ালী উদ্দিন আকবর।চ পরের বছর ১ জানুয়ারি আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন। গত বছরের ২১ আগস্ট আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাদী বন্ধন নাথ আদালতে সাক্ষীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলেন, 'এই মামলার আসামিদের আমি চিনি না। ঘটনার তারিখও মনে পড়ছে না। আমি আর মামলা চালাতে চাই না।' সাক্ষ্য দেওয়ার সময় রাষ্ট্রপক্ষ বাদীকে প্রশ্ন করে বলেন, কোন ধরনের ভয়ভীতির কারণে আপনি ইই বক্তব্য দিচ্ছেন কি না? উত্তরে বাদী বলেন, 'আমি স্বেচ্ছায় মামলাটি আর চালাতে চাই না।'

চার্জশিটের বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনার শুরু ২০১৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। নগরের পাঁচলাইশ ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যান। এ সময় আসামিরা তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বন্ধন নাথকে মারধর করতে থাকেন আসামিরা। একপর্যায়ে তার পিঠে গুলিও চালায় আসামিরা।

পরে আসামিদের দেওয়া একটি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন বন্ধন নাথ। ওই স্ট্যাম্পে ব্যবসায়িক লেনদেন বাবদ তার কাছে (বন্ধন নাথ) আসামিদের ১ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে বলে দেখানো হয়। পাশাপাশি নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাঁচটি চেক আসামিদের দেন বন্ধন নাথ।

এ ঘটনার পর কুয়েতে চলে যান বন্ধন নাথ। সেখান থেকে তিনি নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে টাকা পাঠান। ওই বছরের ৫ মে আসামি দেবাশীষ নাথ চেক দিয়ে বন্ধন নাথের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ লাখ টাকা তোলেন। পরে বাড়ি নির্মাণের জন্য বন্ধন নাথের সঙ্গে চুক্তি করা আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডিজাইন সোর্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চেক জমা দিয়ে ৫৫ লাখ টাকা নেন আসামি এ কে এম নাজমুল আহসান, এ টি এম মঞ্জুরুল ইসলাম, আবু নাছের চৌধুরী, মো. ইদ্রিস মিয়া ও মো. ইমরান হোসেন।

সেদিন বন্ধনের কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা পেয়েও ক্ষান্ত হয়নি আসামিরা। দুবছর পরে ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নির্মাণকাজ করতে গেলে তার (বন্ধন নাথ) কাছে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আসামিরা।