নিরুত্তাপ ভোট পুরোপুরি আ.লীগের

নিরুত্তাপ পরিবেশে গতকাল বুধবার সম্পন্ন হয়েছে সিলেট ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে দুই সিটিতেই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা। সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ৬৯ হাজার ১২৯ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৯১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল পেয়েছেন ৫০ হাজার ৮৬২ ভোট। এছাড়া কর্মী ও অর্থ না থাকায় বাইসাইকেল চালিয়ে নগরীর অলিগলি ঘুরে একা একাই নিজের পক্ষে ভোট চাওয়া মো. শাহজাহান মিয়া তাক লাগানো ফল করেছেন। ২৯ হাজার ৬৮৮ ভোট পেয়ে তিনি তৃতীয় হয়েছেন। তার এই ভোটপ্রাপ্তি সিলেটসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে রাজশাহী সিটিতে আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ২৯০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মুরশিদ আলম পেয়েছেন ১৩ হাজার ৪৮৩ ভোট। যদিও তিনি গত ১২ জুন রাতে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

সিলেটজয়ী আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী : সিসিক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় ফলাফল নিশ্চিত করেছে। তবে পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন জাপার মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাবুল। মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘এই নির্বাচন ও ফল নির্বাচন কমিশনের সাজানো নাটক। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে লাঙ্গল বিজয়ী হতো।’ আনোয়ারুজ্জামানের বিজয়ের মাধ্যমে দশ বছর পর সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ ফিরে পেল আওয়ামী লীগ। সিসিক প্রতিষ্ঠার পর এর আগের চারটি নির্বাচনে প্রথম দুবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর টানা দুটি নির্বাচনে কামরানকে হারিয়ে মেয়র হন বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী। কিন্তু সিসিকের পঞ্চম নির্বাচনে প্রার্থী হননি আরিফুল হক। দলের সিদ্ধান্ত মেনে তিনি নির্বাচন বর্জন করেছেন। এবার তিনি ভোটও দেননি। নির্বাচনের দিন তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে দাদার বাড়িতে সারা দিন সময় কাটিয়েছেন। ফলে মেয়র পদের নির্বাচন নিয়ে উত্তাপ-উত্তেজনাও কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে আনোয়ারুজ্জামান জিতেছেনও।

তবে কাউন্সিলর পদে বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশত প্রার্থী থাকায় সিসিকের ৪২টি সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত ১৪টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী উত্তাপ ছিল। গতকাল বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা, ধাওয়া-ধাওয়ি হয়েছে। তবে বড় কোনো সংঘাত হয়নি। কাউন্সিলর পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৪৭ শতাংশ।

গত কয়েক দিন সিলেটে অবিরাম বৃষ্টি হয়েছে। তবে বুধবার ভোটের দিন আকাশে মেঘ থাকলেও বৃষ্টি হয়নি। ছিল না তেমন গরমও। বলা চলে, ভোট উৎসবের জন্য ছিল চমৎকার পরিবেশ। ভোট শুরুর নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার আগেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটাররা উপস্থিত হন। অনেক কেন্দ্রে তৈরি হয় দীর্ঘ সারি।

সিসিকের ১৯০টি কেন্দ্রেই এবার ইভিএমে ভোট হয়েছে। মেশিনে ভোট দেওয়া নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। অনেকের মনে ছিল নানা সন্দেহ-সংশয়। ইভিএমে ভোটগ্রহণের ধীরগতি নিয়েও ছিল অসন্তোষ। অনেক ভোটার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

রাজশাহীতে লিটনের সহজ জয় : রাজশাহী সিটি করপোরেশনে (রাসিক) আবারও মেয়র নির্বাচিত হলেন আওয়ামী লীগ নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এবার রেকর্ড ভোটে বিজয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো নগর পিতা হলেন তিনি। কয়েক দিন আগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছেন দ্বিতীয় অবস্থানে।

রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ফল ঘোষণা করেন এ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন। নগরীর রানীবাজারে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসেই কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফল দেখছিলেন খায়রুজ্জামান লিটন। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তিনি বলেন, আমি নগরবাসীকে যে ওয়াদাগুলো করেছি, পর্যায়ক্রমে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তা চাইব। তিনি ছাড়া আমার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। আমি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রগুলো তৈরি করতে চাই, যেটা আমি বারবার বলেছি, সেটি করতে যতদূর যাওয়া দরকার, আমি যাব।

লিটন ফের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ। কর্মসূচি অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নগরীর কুমারপাড়ায় মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এরপর দলীয় কার্যালয়ে নবনির্বাচিত মেয়রকে দলের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দলের সমর্থনে ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৩ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে পরাজিত হন তিনি।