সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য রেখেছেন তা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা আখ্যায়িত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য তার রাজনৈতিক কৌশল। বিএনপি কখনোই দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেয়নি, বরং সরকারই সব সময় তা করছে।’ একই সঙ্গে সেন্টমার্টিন ইস্যুতে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করা যাবে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন মির্জা ফখরুল।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব বক্তব্য দিয়ে সুবিধা নিতে চান। কারণ, বিরোধী দলের সঙ্গে কোনো দেশের চুক্তি হয় না। চুক্তি হয় দেশের সঙ্গে দেশের। সরকারপ্রধান নিজের মুখে বলেছেন, আমরা সবকিছু দিয়ে দিয়েছি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশিদের সাহায্য চাওয়ার কথা বলেছেন। একবার ভারতের কাছে বলেছেন, একবার যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বলেছেন যে আপনার একটু সাহায্য করেন, বিএনপি যাতে নির্বাচনে আসে। আবার যেন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হয়। তাহলে উনি কি নিশ্চিত হয়ে গেছেন যে ক্ষমতায় থাকতে পারছেন না। তাহলে এ প্রসঙ্গ আসছে কেন?’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেন্টমার্টিনকে দিয়ে দেওয়ার কথা বলেন ওনারা, সেন্টমার্টিন চাচ্ছেন ওনারা, আপনি চিন্তা করতে পারেন, সেই দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে। যুক্তরাষ্ট্র গত বুধবার বিবৃতি দিয়ে বলেছে তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করে, তারা এসব চায়নি।’
‘আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজপথ বিরোধী দল শূন্য করতে সরকার চক্রান্ত করছে’ এমন অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘মিথ্যা মামলাই শুধু নয়, গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাড়াহুড়ো করে বিরোধী নেতাকর্মীদের সাজা দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির যারা সম্ভাব্য প্রার্থী, তাদের সরকারের গোয়েন্দারা তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে নির্বাচনে টেনে নিতে বাধ্য করছে। চাপ প্রয়োগ করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনরা আবারও জনগণের সঙ্গে প্রতারণার জন্য মিথ্যা কথা বলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার আর ক্ষমতায় থাকতে পারবে না জেনেই বিদেশিদের কাছে সাহায্য চাচ্ছে। বিএনপি ও জনগণ তাদের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের প্রতিটি ইঞ্চি মাটিও কাউকে নিতে দেওয়া হবে না।’
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দয়া করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য দায়িত্ব পালন করুন। সরকারের বেআইনি আদেশ মেনে দেশ ও জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবেন না।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালাম, মনির হোসেন, আ না ম সাইফুল ইসলাম, খন্দকার এনামুল হক এনামসহ মহানগরের নেতারা।
দেশ-বিদেশের মানুষ জানে শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না : গতকাল ঢাকা বারে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম (ঢাকা বার) আয়োজিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আজকে দেশ-বিদেশে সবাই একমত যে শেখ হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কারণ তিনি নিজেই প্রমাণ করেছেন তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। তার অধীনে দিনের ভোট রাতে হয়। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’