উন্নয়নের সঙ্গে কৃতিত্ব আইনশৃঙ্খলায়ও

ক্ষমতার ১৪ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার অর্জনের পাশাপাশি দুর্নামও কামিয়েছে। ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ আর বিদেশে অর্থ পাচার ঘটনা আলোচিত। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের আকাশছোঁয়া দাম, সরকারে থেকে আওয়ামী লীগের মধ্যমসারির নেতাদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলা, গ্রামে-গঞ্জে,পাড়া-মহল্লা ও মফস্বল শহরগুলোতে নেতাকর্মীদের অসদাচরণের ঘটনা সরকারে থাকা আওয়ামী লীগকে বিপাকে ফেলে দিয়েছে।

অনেকগুলো অর্জনের মধ্যে সবার কাছে স্বীকৃতি পাওয়া অন্যতম অর্জন হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারার কৃতিত্ব।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত আলোচিত ঘটনাগুলোর অন্যতম ছিল জঙ্গি তৎপরতা। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় দেশি-বিদেশি নাগরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনা ছিল বেশ আলোচিত। ওই ঘটনার পর নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়া নব্য জেএমবির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়। এ ছাড়া আনসারুল্লাহ বাংলা টিমও আইনশৃঙ্খলার জন্য বিরাজ হুমকি হয়ে উঠেছিল। ব্লগার, প্রকাশক ও মুক্তমানা লেখকদের হত্যা মাধ্যমে জঙ্গিরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছিল। ওই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে দেশ। বর্তমানে পাহাড়ে আস্তানা গেড়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া সংগঠন তৎপর হয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে পেরেছে। পাহাড়ে নতুনভাবে মাথাচাড়া দেওয়া কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে সারা দেশে বিচ্ছিন্নভাবে খুন-জখম, চুরি-ডাকাতি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটতে থাকলেও সেটা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো উল্লেখযোগ্য নয়। বরং শহরাঞ্চলে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কারণে নাগরিকদের নিরাপত্তা অনেকখানি নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানীতে রাতে মানুষের চলাফেরা আগের চেয়ে বেড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা নোমান চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চুরি-ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে খুনোখুনির ঘটনাগুলো যেমন জাদুঘরে চলে গেছে, তেমনি পূজা-পার্বণ ও ঈদ উৎসবে কেনাকাটায় বের হওয়া মানুষ গভীর রাতেও স্বস্তিতে বাসায় ফিরতে পারছে। এ কৃতিত্ব সরকারকে দিতেই হবে।’

শেয়ারবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আবদুল্লাহ কাঈফ বলেন, ‘গভীর বা ভোররাত কোনো সময়ই নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি না। এটা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের বড় সাফল্য।’

ঠিকাদারি ব্যবসায় জড়িত আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষকে দুর্ভাবনায় থাকতে হচ্ছে না এ কয়েক বছর ধরে। ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা লাখ বা কোটি টাকা বহন করা গেছে নিশ্চিন্তে। তবে ছোটখাটো কিছু ঘটনা থাকতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘পাড়া-মহল্লায় চাঁদাবাজি শহুরে জীবনে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা ছিল। সেটিও এখন দেখা যায় না খুব। নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে গন্তব্যে যেতেও মানুষকে দুশ্চিন্তায় ভুগতে হচ্ছে না।’

রাজধানীতে রিকশা চালান রংপুরের রহিমউদ্দিন। সাড়ে তিন বছর এ পেশায় আছেন তিনি। রহিমউদ্দিন বলছিলেন, গভীর রাতেও রিকশা চালিয়ে দুই-আড়াই হাজার টাকা নিয়ে খিলগাঁওয়ের বাসায় যান তিনি, কখনো ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে হয়নি তাকে। তিনি জানান, আগে রাতে যাত্রী পেলে মেইন রোড পর্যন্ত যাবেন বলে ভাড়া ঠিক করতেন। এখন আর কোনো যাত্রীকেই সেটা জিজ্ঞাস করতে হয় না।