বিশ্বকে চমকে দিয়ে রাশিয়াকে নাড়িয়ে দেওয়া নাটকীয় বিদ্রোহের জনক ইয়েভগেনি প্রিগোজিন গত শনিবারের চরম অস্থিরতার পর প্রথমবারের মতো একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সর্বশেষ এ বার্তায় ওয়াগনারপ্রধান প্রিগোজিন বলেন, ‘রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের পতন ঘটাতে তার সেনারা মস্কোর দিকে যাত্রা করেনি বরং তারা ওয়াগনারের ধ্বংস এড়াতে চেয়েছিল।’
বিবিসি জানায়, বিদ্রোহের যুক্তি হিসেবে রুশ প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রতি ক্ষোভকে দায়ী করেছেন ওয়াগনারপ্রধান। ইউক্রেন যুদ্ধে ভুল করার জন্য তিনি যে নেতাদের দোষারোপ করেছিলেন তাদের জবাবদিহি করাতেই ওয়াগনার সেনারা ওই বিদ্রোহ করেছিল বলে জানিয়েছেন প্রিগোজিন। তিনি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, ন্যায্য দাবিতে ওয়াগনারের ওই পদযাত্রা প্রেসিডেন্ট পুতিনের সরকারকে উৎখাত করার জন্য ছিল না।
গত সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত ১১ মিনিটের ওই ভিডিও বার্তায় সংক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণ বিদ্রোহের পক্ষে এসব কথা বলেন ক্ষ্যাপাটে হিসেবে পরিচিতি পাওয়া প্রিগোজিন। সম্প্রতি ইউক্রেনের বাখমুত রাশিয়ার দখলে এনে দেওয়ার নায়ক, রণক্ষেত্রের ওই সফলতার পর নিজেকে ‘পুতিনের কসাই’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছিলেন। অথচ শনিবারের বিদ্রোহের পর তিনি যেন রাতারাতি রাশিয়ার কাছে খলনায়ক হয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে ওয়াগনারপ্রধান বিদ্রোহের পক্ষে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেছেন এই ভিডিও বার্তায়।
প্রিগোজিনের দাবি, রুশ কর্র্তৃপক্ষ আগামী ১ জুলাই থেকে ওয়াগনার গ্রুপ বন্ধ করে দিয়ে এর সৈন্যদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। ওয়াগনারের মাত্র ১-২ শতাংশ যোদ্ধা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু পুর ওয়াগনার গ্রুপ এর বিরোধী ছিল এবং কমান্ডাররা কেউই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে রাজি হননি। এটি বিদ্রোহের একটি বড় কারণ।
তিনি আরও বলেন, ‘এই বিদ্রোহের আগে আমরা কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করিনি, অথচ আমাদের লক্ষ্য করে মিসাইল হামলা হয়, পাঠানো হয় হেলিকপ্টার। ওয়াগনারের অনেকে হতাহত হয়। এ ঘটনাই আমাদের ওই তাৎক্ষণিক পদযাত্রায় যেতে বাধ্য করে।’
বিদ্রোহের বর্ণনা দিয়ে প্রিগোজিন জানান, ওয়াগনারের দুটি দলের একটি রোস্তভ-অন-দন দখলে নেয়, অন্য দলটি মস্কোর দিকে রওনা দেয়। এই পদযাত্রায় রাশিয়ার একজন সেনাকেও হত্যা করা হয়নি। তবে বিমানবাহিনীকে হামলায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রিগোজিন যুক্তি দেন, তাদের ওপর বোমা-মিসাইল হামলার জন্য নিরুপায় হয়েই ওই হামলা চালিয়েছিল তার দল।
প্রিগোজিন তার বার্তায় রুশ প্রতিরক্ষা বিভাগের সমালোচনা করে দাবি করেন, ওয়াগনার গ্রুপকে প্রথম আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হলে অনেক আগেই ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শেষ হয়ে যেত।
সোমবার প্রিগোজিনের এই বার্তা প্রকাশ পেলেও তিনি এখন কোথায় তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ফ্লাইট ট্র্যাকার ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য বলছে, গতকাল মঙ্গলবার দুপুররাত ০২৩২ জিএমটিতে এমব্রিয়ার লিগ্যাসি ৬০০ জেট বিমানটি রোস্তোভ থেকে বেলারুশের উদ্দেশে রওনা হয়ে ০৪২০ জিএমটিতে মিনস্কের কাছে অবতরণ করতে শুরু করে, তবে এটি আসলে সেখানে নেমেছে কি না তা পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার নথি থেকে জানা গেছে, এই জেটটি প্রিগোজিন-সংশ্লিষ্ট।
এদিকে বিদ্রোহের অভিযোগে ওয়াগনার ও ইয়েভগেনি প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে রাশিয়া। গতকাল রুশ কর্র্তৃপক্ষ বলেছে, প্রিগোজিন ও ওয়াগনার সেনাদের বিরুদ্ধে আর কোনো অভিযোগ নেই। তাই মামলা প্রত্যাহার করে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি।