এশিয়ায় তাপপ্রবাহ

২০৫০-এ দুরূহ হবে ঘরের বাইরে কাজ করা

২০২২ সালে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিল ইউরোপ। এবার তীব্র তাপের গ্রাসে এশিয়া। নজিরবিহীন তাপমাত্রা দেখছে চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ এশিয়ার সব প্রায় অংশের ছোট-বড় দেশ। ছয় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ উত্তাপের কবলে পড়েছে বেইজিংবাসীরা। আর গ্রীষ্মের শুরু থেকেই প্রচণ্ড তাপের কবলে যেন জ¦লছে ভারত। ভয়ংকর তাপপ্রবাহে দগ্ধ ভারতের উত্তরাঞ্চলে অবশেষে শুরু হয়েছে বহুল আকাক্সিক্ষত বৃষ্টিপাত। এতে সেখানকার বাসিন্দারা আপাতত হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও তাপমাত্রার পারদ এখনো ওপরই থাকছে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে। ক্রমবর্ধমান এই তাপপ্রবাহ চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, কীভাবে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটির লাখ লাখ মানুষ জলবায়ু সংকটের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উত্তর প্রদেশে চলতি সপ্তাহে বৃষ্টি নামার আগে ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যটির কিছু কিছু এলাকায় তাপমাত্রার পারদ উঠেছিল ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এতে তাপজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন শত শত মানুষ। বিহারে এখনো চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ, যার কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে সেখানকার কর্র্তৃপক্ষ।

শুধু ভারতই নয়, ভুগছে অন্য দেশগুলোও। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, আগামী দিনগুলোতে উত্তর-পূর্ব চীনের তাপমাত্রার পারদ চড়া থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিছু কিছু শহরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও ওপরে উঠতে পারে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত সপ্তাহে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহান্তের বৃষ্টিপাত অঞ্চলটিতে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে। গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের চরম তাপমাত্রার প্রভাব বিধ্বংসী হতে পারে।

গত এপ্রিলে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত এক সমীক্ষায় বলা হয়, তীব্র তাপপ্রবাহ ভারতের কৃষি, অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ‘অভূতপূর্ব চাপ’ তৈরি করেছে এবং দেশটির উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করছে।

সমীক্ষায় বলা হয়, ধারণা করা হচ্ছে ভারতের তাপপ্রবাহগুলো ২০৫০ সালের মধ্যে ছায়ায় বিশ্রাম নেওয়া সুস্থ মানুষের বেঁচে থাকার সীমাও অতিক্রম করতে পারে। এটি উৎপাদনশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং ৩১ থেকে ৪৮ কোটি মানুষের জীবনযাত্রার মানকে প্রভাবিত করবে। আশঙ্কা রয়েছে, এ সময়কালে প্রচণ্ড তাপের কারণে দিনের আলোয় বাইরে কাজ করার ক্ষমতা ১৫ শতাংশ কমে যাবে।