পুলিশের গুলিতে কিশোর নাহেল মারজুকের নিহতের ঘটনায় টানা পঞ্চম দিন বিক্ষোভ-সহিংসতা দেখল ফ্রান্স। তবে দাঙ্গার তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছে বলে গতকাল রবিবার এক প্রতিবেদনে জানায় আলজাজিরা। বিবিসি জানায়, দাঙ্গা থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন নাহেলের নানি। তিনি বলেছেন, ‘নাহেলের মৃত্যু আমার মেয়ের জীবন স্তব্ধ করে দিয়েছে, এখন তোমরা দোকান, স্কুল, বাস ভাঙা থামাও।’ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্থানীয় সময় রবিবার জরুরি সভা ডেকেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
এদিকে খণ্ড খণ্ড সহিংসতা ঘটে চলেছে ফ্রান্স জুড়ে। এদিন দাঙ্গার মূল ঘটনাগুলো ঘটে দেশটির বন্দর শহর মার্সেইতে। এর মধ্যে গত শনিবার রাতে রাজধানী প্যারিসের এক মেয়রের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা। ভাঙচুর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই রাতে প্যারিসসহ পুরো ফ্রান্স থেকে ৭১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএনএন বিবিসিসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা শনিবার রাত দেড়টার দিকে প্যারিসের উপশহর লিলেস রোজেসের মেয়র ও রক্ষণশীল দল লেস রিপাবলিকান পার্টির নেতা ভিনসেন্ট জিনব্রানের বাসভবনে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাইরে রাখা মেয়রের গাড়ি ভাঙচুর ও বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। ভিনসেন্ট জিনব্রান সে সময় জরুরি বৈঠকের জন্য বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, বাড়িতে দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন আমার স্ত্রী। রাত দেড়টার দিকে একদল বিক্ষোভকারী বাড়ির গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে।
গতকাল এক বিবৃতিতে ভিনসেন্ট জিনব্রান বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা চরম কাপুরুষতা দেখিয়েছে। আমি জরুরি এক বৈঠকে বাড়ির বাইরে ছিলাম। এ সুযোগে রাতে একদল লোক আমার বাড়ির গেট ভেঙে ঢুকে প্রথমে গাড়ি ভাঙচুর ও পরে বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। জীবন বাঁচাতে আমার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় আহত হন। আমাদের এক সন্তানও আহত হয়েছে।’ বিবিসি বলছে, মেয়রের স্ত্রীর একটি পা ভেঙে গেছে।
গত মঙ্গলবার প্যারিসের উপশহর নানতেরে ট্রাফিক আইন অমান্যের অভিযোগে আলজেরীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম কিশোর নাহেল মারজুককে গাড়ি থামাতে বলেছিল পুলিশ। কিন্তু নির্দেশ না মানায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন এক পুলিশ সদস্য। এতে মারা যায় নাহেল।
নাহেলের মৃত্যুর পর থেকেই নানতেরে বিক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। সেদিন বিকেলের দিকে নাহেলের মা মোনিয়া এক ভিডিওতে তার ছেলেকে হত্যাকারী পুলিশ সদস্যের বিচার দাবি করেন, যা ফ্রান্সের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তারপর থেকেই বিক্ষোভ দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভ দাঙ্গায় পরিণত হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে বিক্ষোভকারীরা ফ্রান্সের অন্তত ১০টি শপিং মল, ২০০ সুপার মার্কেট, ২৫০টি তামাকজাত পণ্যের দোকান, ২৫০টি ব্যাংক ও শত শত সরকারি ভবনে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। শনিবার রাত জুড়ে পুলিশের ওপর হামলা, নাশকতা ও লুটপাটের অভিযোগে রাজধানী প্যারিস ও অন্যান্য শহর থেকে ৭১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগের দিন শুক্রবার প্রায় ১ হাজার ৩০০ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশ জুড়ে ৪৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করেছে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টহল দিচ্ছে সাঁজোয়া যান ও হেলিকপ্টার।