ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা বা কোনো ধর্মকে আঘাত করা নয়, মানবতার শান্তির স্বার্থে এই বার্তায় অবশেষে যেন একমত হলো সুইডেনের অধিকাংশ মানুষ। সুইডিশ জাতীয় টেলিভিশন সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান এসভিটি পরিচালিত নতুন এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গত সপ্তাহে কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনা ও বিক্ষোভ হওয়ার পর সুইডিশ জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
আন্তর্জাতিক নীতি তৈরিকারী ও সামাজিক গবেষণাকারী প্রতিষ্ঠান ‘কান্তার পাবলিক’ দ্বারা পরিচালিত সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ বলেছেন, জনসমক্ষে যেকোনো ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ পোড়ানো নিষিদ্ধ হওয়া উচিত। বিপরীতে ৩৪ শতাংশ বলেছে এ ধরনের কাজে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত নয়। বাকি ১৩ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ছিল সিদ্ধান্তহীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই ফলাফলে আরও দেখা যায়, গত বছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি সুইডিশ নাগরিক কোরআনসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন। গত বুধবার সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে সালওয়ান মোমিকা নামে এক ব্যক্তি মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থ কোরআনের একটি কপি পুড়িয়ে দেয়। সে সময় সুইডেন পুলিশ ওই ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেয়। সুইডেনের একটি আদালত সালওয়ানকে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর অনুমতি দেয়।
পবিত্র ঈদুল আজহার দিন এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। বিশ্বব্যাপী সুইডেনে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এ ঘটনার প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত সুইডিশ চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে।
এছাড়া নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে পুরো আরব বিশ্বসহ অন্য মুসলিম দেশগুলোতে। কোরআন পোড়ানোর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানায় মরক্কো, মিসর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান ও ফিলিস্তিন।
এমনকি, এ ঘটনার নিন্দা জানান রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনও। পশ্চিমা দেশগুলোকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, কিছু দেশ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করে না।’