বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের রাজনীতিকদের চিঠিকে নব্য উপনিবেশ হিসেবে দেখছে রাশিয়া। একই সঙ্গে তারা মনে করছে, এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরও একটি নগ্ন হস্তক্ষেপ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের লেখা কিছু চিঠি প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়টি রাশিয়ার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। টুইটে বলা হয়, এটা হলো নব্য উপনিবেশ এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আরেকটি নগ্ন হস্তক্ষেপ।
এর আগে গত বছর ডিসেম্বর মাসেও বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পরোক্ষভাবে ‘ব্ল্যাকমেইল এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার’ অভিযোগ তোলা হয়। ওই বছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ৯ বছর আগে নিখোঁজ বিএনপি এক নেতার বাসায় যান। সে সময় সেখানে পিটার হাসের কাছে স্মারকলিপি দিতে যান জিয়াউর রহমানের আমলে সশস্ত্র বাহিনীতে হত্যা ও নিখোঁজের শিকার পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের কান্না’-এর সদস্যরা। যা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। বাংলাদেশ সরকারের কিছু মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতারা যখন অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের বাড়তি নিরাপত্তাও প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সরকার। এর জেরে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানকে তলব করে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এর পরদিন ঢাকার রুশ দূতাবাস তাদের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলে, ভিন্ন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ অগ্রহণযোগ্য। স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা সম্পর্কিত ১৯৬৫ সালের জাতিসংঘের ঘোষণা অনুসারে কোনো রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বা বৈদেশিক নীতির বিষয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করার অধিকার অন্য কোনো রাষ্ট্রের নেই।
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিজেদের উন্নত গণতন্ত্রের অধিকারী বলে দাবি করা দেশগুলোর মধ্যে আধিপত্যবাদী উচ্চাকাক্সক্ষা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তারা শুধু জাতিসংঘের সার্বভৌম সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপই করে না, বরং নির্লজ্জ প্রতারণা, অবৈধ বিধিনিষেধ আরোপ করে।
রুশ দূতাবাসের এ বিবৃতি প্রকাশের পরদিন পাল্টা অবস্থান প্রকাশ করে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। এক টুইট বার্তায় দূতাবাস ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রসঙ্গ টেনে আনে।