চাকরি হারালেন সেই মেহেদী

সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফহোমে আশ্রয়ে থাকা গৃহকর্মীদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের দায়ে উপসচিব মো. মেহেদী হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। এর আগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তার চাকরিচ্যুতির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। ২১তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মেহেদী হাসান রিয়াদ দূতাবাসে কাউন্সেলরের দায়িত্বে থাকার সময় সেখানে আশ্রয়ের সন্ধানে যাওয়া বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে দেশ রূপান্তরে ২০২১ সালের ৪ আগস্ট ‘পবিত্র ভূমিতে পাপাচার’ শিরোনামে সংবাদ ছাপা হলে প্রশাসনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মেহেদী হাসান ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করে উল্টো ধর্ষিতাদের প্রস্টিটিউট গ্যাং হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেন। তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। মেহেদী হাসান শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছেও মার্জনা চেয়েছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতি তাকে ক্ষমা করেননি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রিয়াদ দূতাবাসের সেফহোমে আশ্রিত কতিপয় গৃহকর্মীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় মেহেদী হাসানকে ওই পদ থেকে ২০২১ সালের ২৪ জানুয়ারি অবমুক্ত করা হয়। এরপর এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে অসদাচণের অভিযোগে বিভাগীয় মামলা দিয়ে ওই বছরের ১০ মার্চ তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। ৮ এপ্রিল লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর জবাব দিয়ে ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন মেহেদী হাসান। ব্যক্তিগত শুনানিতে দাখিলকৃত জবাব ও বক্তব্য সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ওই বছরের ২০ জুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তদন্তে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে দূতাবাসের সেফহোমে আশ্রিত কতিপয় গৃহকর্মীকে অপ্রয়োজনীয় একান্ত সাক্ষাৎকারের নামে অশ্লীল প্রশ্ন ও আচরণসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা এবং যৌন নির্যাতন (ধর্ষণ) করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা ২০২২ সালের ২০ ডিসেম্বর মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অসদাচণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা করে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী, মেহেদী হাসানকে গুরুদন্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। ওই নোটিসে কেন তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো গুরুদন্ড দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর জবাবে মেহেদী তার বিরুদ্ধে আনা এবং তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের বিপরীতে সন্তোষজনক বক্তব্য দিতে পারেননি বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।