রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলি, ৬ জন নিহত

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলিতে ছয়জন নিহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ক্যাম্প-৮ ওয়েস্টে এ ঘটনা ঘটে। গোলাগুলির সময় ঘটনাস্থলে পাঁচজন নিহত হয়। পরে সন্ধ্যায় ১১ নম্বর ক্যাম্পের একটি ডোবা থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ একজনকে গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতরা সবাই আরসার সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে এপিবিএন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণে কিছুদিন ধরে আরসা ও আরএসওর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। এরই জেরে দুপক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে পুরো রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

নিহতরা হলেন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আনোয়ার সাদেক (২৩), মো. হামিম (২১), উখিয়ার ১০ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা নজিমুল্লাহ (২৬), উখিয়ার ৩ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা নুরুল আমিন (২৪), ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শুক্কুর (৩২) ও উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

সানাউল্লাহ (৩৫)। গুলিবিদ্ধ হলেন উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা ইমান হোসেন (৪৫)।

ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি বলে জানিয়েছেন উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ব্লকে ব্লকে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন।

৮-এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড মিডিয়া) ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ক্যাম্পে একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে খুনোখুনি বাড়ছে। এরই মধ্যে ভোরে দুই সন্ত্রাসী দলের গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা সবাই আরসার সদস্য।’

৮-এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আমির জাফর বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে ক্যাম্পে রোহিঙ্গা দুষ্কৃতকারীদের গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৮-এপিবিএনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

গত বৃহস্পতিবার সকালে উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সাব-মাঝি এবাদুল্লাহ খুন হন।