মুন্সীগঞ্জে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কিশোরী কন্যাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এক ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম শেখ শাকিল (২৫)। তিনি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
গত ৪ জুলাই রাত সাড়ে ১২টা থেকে ১টার মধ্যে হাসপাতালের দ্বিতীয়তলার চিলেকোঠায় নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মা বাদী হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকে আসামি করে মামলা করেছেন।
জানা যায়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী মা তার একমাত্র মেয়েকে নিয়ে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতেন। ছোট বেলায় বাবা হারানোর পর মেয়েটি তার মায়ের কাছে থাকেন। ওই কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে হাসপাতালেই বেশিরভাগ সময় থাকে। হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে সুপরিচিত সে।
কিশোরীর মা জানান, ওই রাতে ছাত্রলীগ নেতা শাকিল ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করছিল। তার চোখের আঁড়ালে মধ্যরাতের দিকে তার মেয়েকে জোরপূর্বক হাসপাতালের দ্বিতীয়তলার সিঁড়ির চিলেকোঠায় নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে ধর্ষণ করে ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। পরদিন ওই হাসপাতালেই কিশোরীর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. তারিকুজ্জামান জানান, কিশোরীকে ধর্ষণের ঘটনায় শাকিল নামে একজনকে আসামি করে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল মৃধা বলেন, কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের জড়িত থাকার কথা ইতিমধ্যে নজরে এসেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শহর ছাত্রলীগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনা তদন্তে হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. আবু হেনা মোহাম্মদ জামালকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিভিল সার্জন ডা. মঞ্জুরুল আলম জানান, আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিভিল সার্জন সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত কমিটি প্রথমত দেখবে ঘটনাটি ঘটেছে কি না। তাছাড়া কীভাবে ঘটেছে, এ ঘটনায় হাসপাতালের কারও দায়িত্বে অবহেলা আছে কি না ও হাসপাতালের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর সহযোগিতা ছিল কি নাÑ এসব খতিয়ে দেখবে।
নানা বাড়িতে ঈদ করতে এসে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী : কুমিল্লার দেবিদ্বারে নানা বাড়িতে ঈদ করতে এসে এক স্কুলছাত্রী (১৬) ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় অলিউল্লাহ নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রীর বাবা দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে নানা বাড়িতে বেড়াতে আসে ওই ছাত্রী। ঈদের দিন বিকেলে একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের ছেলে পারভেজ তাকে দেখে প্রেমের প্রস্তাব দিলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে। এরপর থেকে প্রায়ই পারভেজ তাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। গত ৫ জুন রাতে পারভেজ তার তিন বন্ধু রিয়াজ, অলিউল্লাহ ও নুরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলছাত্রীর নানা বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেয়। রাত ১০টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে তার মুখ চেপে পাশের একটি বাঁশ ঝাড়ের ভেতর নিয়ে গিয়ে বন্ধুদের সহায়তায় পারভেজ তাকে ধর্ষণ করে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কমল কৃষ্ণ ধর বলেন, ভোক্তভোগী ওই কিশোরীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা করেন। মামলার এজাহার নামীয় আসামি অলিউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে কোর্ট হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।