বিশ্ব অর্থনীতির বেহাল দশার মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক নিয়ে সুখবর দিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা- আঙ্কটাড। সংস্থাটি বলেছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ২০ দশমিক ১৬ শতাংশ বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন (৩৫০ কোটি) ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে। যদিও এই সময়ে বিশ্বে এফডিআই আগের বছরের চেয়ে ১২ শতাংশ কমেছে। গত বুধবার প্রকাশিত আঙ্কটাডের ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২২’-এ এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত বছর বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে ৩৪৮ কোটি (৩.৪৮ বিলিয়ন) ডলার। ২০২১ সালে এসেছিল ২৮৯ কোটি ৬০ লাখ (প্রায় ২.৯ বিলিয়ন) ডলার। মহামারী শুরুর বছর ২০২০ সালে এসেছিল ২৫৬ কোটি ৪০ লাখ (২.৫৬ বিলিয়ন) ডলার। ২০১৯ সালে এসেছিল ২৮৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তবে এর আগের বছর ২০১৮ সালে রেকর্ড এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ; ৩৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে জাপানের কোম্পানি জাপান টোব্যাকো। আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা কেনা বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি (১.৫ বিলিয়ন) ডলার বিনিয়োগ করেছিল তারা।
এফডিআই বৃদ্ধি পেলেও একই সময়ে দেশ থেকে মোটা অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ বের (স্টক) হয়ে গেছে বলে আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, গত বছর এফডিআই স্টক ৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলার কমে গেছে। ২০২২ সাল শেষে দেশে এফডিআই স্টক দাঁড়িয়েছে ২১১ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। ২০২১ সালে যা ছিল ২১৫ কোটি ৮২ লাখ ডলার।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালে দেশে এফডিআই এসেছিল ২ দশমিক ১৫২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালে ২ দশমিক ৩৩৩ বিলিয়ন ডলার এবং ২০১৫ সালে ২ দশমিক ২৩৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫ সালেই প্রথম বাংলাদেশে এফডিআই ২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল।
আর ওই তিন বছর (২০১৫, ২০১৬ ও ২০১৭) বাংলাদেশে এফডিআই স্টক ছিল যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৫৫৭ বিলিয়ন ডলার, ১৪ দশমিক ৫৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং ১২ দশমিক ৯১২ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এফডিআই আকর্ষণে ২০২২ সালে শীর্ষে ছিল ইথিওপিয়া। দেশটিতে ৩ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার এফডিআই গেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা কম্বোডিয়া পেয়েছে ৩ দশমিক ৫৬৯ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।