১৪৫ শতাংশ ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব, রাজি নয় কমিশন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রকল্পের শেষ সময়ে এসে নতুন করে ৭১৬ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রকল্প বরাদ্দের চেয়ে ১৪৭ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ দুই বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাবও করা হয়েছে। তবে এই প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে ৩৪৬ কোটি টাকা ব্যয় কমাতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেটা সেন্টারে বকেয়া থাকা ১৩২ কোটি টাকা পরিশোধ করার প্রস্তাব করা হলেও তা বাদ দিয়ে রাজস্ব খাত থেকে পরিশোধের কথা বলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এটুআই প্রকল্পটি ৪৮৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২০ সালে বাস্তবায়ন শুরু হয়। শেষ হওয়ার কথা ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। সেই হিসেবে প্রকল্পের মেয়াদ বাকি আছে ছয় মাসেরও কম। এ সময় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি ৬০ শতাংশেরও কম। এ বিষয়েও যৌক্তিক কারণ জানতে চেয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বিভিন্ন শর্তপূরণ করে পুনর্গঠিত প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে আইসিটি বিভাগ। সংশোধনী প্রস্তাবে অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ৭১৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২০১ কোটি ৯১ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে সংশোধনী

প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব বিবেচনার জন্য বিশেষ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা করেছে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ। সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মূল প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ছিল ৪০৩ কোটি ও বৈদেশিক অর্থায়ন ৮১ কোটি টাকা। সংশোধনী প্রস্তাবে বৈদেশিক সহায়তা ৩০১ কোটি এবং সরকারি অর্থায়নে ৯০০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করেছে এটুআই। তবে সরকারি খাত থেকে ৩৪৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কমিয়ে ৫৫৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করে পুনর্গঠিত সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে বলা হয়েছে।

এটুআই সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এটুআই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে দেশব্যাপী ৮ হাজার ৮০০টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এসব ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে বর্তমানে ১৬ হাজারের অধিক উদ্যোক্তাদের সেবা প্রদান করে স্বাবলম্বী করা হচ্ছে। ডি-নথি, মাইগভ, ন্যাশনাল পোর্টাল, ডিজিটাল সেন্টার, ৩৩৩, একশপ, একসেবা, জিআরএস, আরএমএসের মতো ডিজিটাল অবকাঠামোর জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর তথ্য বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড সংরক্ষণ বাবদ ১৩২ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে এবং বর্তমানে ওই বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বলেছে, মূল টিএপিপিতে ডেটা খাতের সংস্থান ছিল না, বর্তমানে প্রস্তাবিত সংশোধিত টিএপিপিতে নতুন অঙ্গ হিসেবে এটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা অনুমোদনের সুযোগ নেই। রাজস্ব খাত থেকে বকেয়া পরিশোধের পরামর্শ দিয়ে ব্যয় কমাতে বলেছে কমিশন। প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিকীকরণ করে ৮৫৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।