পুলিশের ব্যাংকেই জালিয়াতি

কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। ব্যাংকটিতে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগপত্র দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এজন্য ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। গত বছর কমিউনিটি ব্যাংকের গুলশান কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটে।  তবে বিষয়টি আড়াল করছেন ব্যাংক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা।

পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত এই ব্যাংকটিতে ঘটে যাওয়া বিষয়টি জানতে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে একেবারেই নারাজ। জালিয়াতির ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন কমিউনিটি ব্যাংকের এই মামলা সংক্রান্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যমকে দেওয়া যাবে না।

তাদের কাছ থেকে শুধু এটুকু জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান সার্কেল-১ এর পুলিশ প্লাজায় অবস্থিত কমিউনিটি ব্যাংকের কার্যালয়ে গত বছর ১১ ডিসেম্বর কয়েকজন চাকরি প্রার্থী এসে জানতে পারেন তাদের এই ব্যাংকে নিয়োগের বিষয়ে কোনো তথ্য কর্র্তৃপক্ষের কাছে নেই। এরপর চাকরিপ্রার্থীরা তাদের কাছে থাকা নিয়োগপত্র কর্মকর্তাদের দেখান। ওই কর্মকর্তারা নিয়োগপত্রগুলো যাচাই করে বুঝতে পারেন নিয়োগপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, এ ঘটনায় রাজধানীর গুলশান থানায় কমিউনিটি ব্যাংক বাদী হয়ে একটি মামালা দায়ের করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায় ঘটনার সারসংক্ষেপ উল্লেখ করে ডিসেম্বরে গুলশান থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে কমিউনিটি ব্যাংকে কর্মরত এক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাটির বাদী হয়েছেন ওই ব্যাংকেরই কর্মকর্তা সাইফুল আলম। তিনি কমিউনিটি ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কোম্পানি সচিব পদে কর্মরত রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে ব্যাংকটির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইফুল আলম উল্লেখ করেন, মো. এনামুল হক নামে এক ব্যক্তি একটি নিয়োগপত্র নিয়ে কমিউনিটি ব্যাংকের পুলিশ প্লাজার হেড অফিসে আসেন। তার নিয়োগপত্র কর্মকর্তারা পর্যালোচনা করে বুঝতে পারেন এটি ভুয়া। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, এই ব্যাংকে কর্মরত মো. নেছার উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে এটা পেয়েছেন। মো. নেছার উদ্দিন কমিউনিটি ব্যাংকের পুলিশ প্লাজার হেড অফিসে কাস্টমার সার্ভিস এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ব্যাংকটির পরিচালক পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে কমিউনিটি ব্যাংকের প্যাডে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউল হক চৌধুরীর ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে নিয়োগপত্র তৈরি করে বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীকে দিয়েছেন। এ বিষয়ে নেছার উদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, তার সহযোগী নুর উদ্দিনের মাধ্যমে ৪ মাস ধরে বিভিন্ন লোকজনকে কমিউনিটি ব্যাংকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

জানতে চাইলে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মসিউল হক চৌধুরী প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, এমন কিছু লোক এসেছিল, পরে তারা চলে গেছে। তবে তিনি ভুয়া নিয়োগপত্র ও মামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

এ বিষয়ে জানতে গুলশান থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুল হক এই মামলা সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেননি। তিনি বলেছেন, মামলাটি দায়ের হওয়ার পর আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তদন্তের প্রাথমিক কাজ শুরু না করতেই মামলাটি পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানায়, মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো দক্ষিণকে। পরে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আক্তার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেলে তিনি কোনো তথ্য না দিয়ে নানাভাবে এড়িয়ে গেছেন বিষয়টি। তিনি বলেছেন, কমিউনিটি ব্যাংকের এই মামলা সংক্রান্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যমকে দেওয়া যাবে না।

নিয়োগের নামে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার পেছনে কারা জড়িত, প্রকৃত ঘটনা কী, এছাড়া ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মন্তব্য জানার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।