অতিরিক্ত ওজন বাড়ায় যেসব রোগের ঝুঁকি

অতিরিক্ত ওজন সারাবিশ্বেই প্রধান সমস্যা। প্রতিটি মানুষের ওজনের তুলনায় কিছু পরিমাণ মেদ শরীরের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু শরীর ও উচ্চতার সাথে প্রয়োজনীয় ওজন কতটুকু হওয়া উচিত জানে না বেশীরভাগ মানুষই।

অতিরিক্ত ওজন একদিকে যেমন বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে, অন্যদিকে মানসিক অশান্তি, অবসাদ আর হীনম্মন্যতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিশ্বে প্রতি বছর ২৮ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায় শরীরে অতিরিক্ত ওজনের কারণে। অতিরিক্ত ওজনের কারণে জটিল অনেক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। হতে পারে ক্যান্সারও।

অতিরিক্ত ওজনের কারণ

যদি কোনও মানুষের বডি মাস ইনডেক্স বা BMI ৩০-এর বেশি হয় তাহলে ধরে নিতে হয় সেই মানুষটি অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটিতে ভুগছেন।

১. সাধারণত অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ার জেরে শরীরে বাড়তে থাকে মেদের পরিমাণ।

২. বংশগত কারণে অনেকের মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকে।

৩. হাইপোথায়রয়েডিজমের রোগীরা থাইরয়েড হরমোনের অভাবে এবং প্রেডার উইলি, হলট ওরাম সিন্ড্রোমের রোগীরা জিনগত কারণে মোটা হয়ে থাকেন।

৪. অনিয়ন্ত্রিত ঘুম বা অতিরিক্ত চিন্তাও ওজন বাড়িয়ে দেয়।

৫. শারীরিক পরিশ্রম কম করলেও ওজন বাড়ে।

অতিরিক্ত ওজনে বাড়ে যেসব রোগের ঝুঁকি

১. হৃদরোগের ঝুঁকি

বিভিন্ন গবেষণায় জানা গেছে যে, কার্ডিয়োভাসকুলার বিভিন্ন রকম সমস্যার সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের সম্পর্ক রয়েছে। অতিরিক্ত মেদ ধমনীর দেওয়ালে জমতে শুরু করলে, রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। ফলে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বাড়তে থাকে।

২. টাইপ ২ ডায়াবেটিস

অল্প বয়সে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার নেপথ্যে সরাসরি যোগ রয়েছে অতিরিক্ত ওজনের। দেহের অতিরিক্ত মেদ থেকে ইনসুলিন ক্ষরণের পরিমাণ ব্যাহত হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায়। রক্তে অনিয়ন্ত্রিত শর্করা অন্যান্য বহু রোগের ক্ষেত্রে অনুঘটকের মতো কাজ করে।

৩. ক্যান্সারের ঝুঁকি

স্তন, কোলন, কিডনি এবং অগ্ন্যাশয়ে ক্যান্সারের মত জটিল রোগ হতে পারে অতিরিক্ত ওজন থেকে। ডায়াবেটিস থেকে হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার মতো লক্ষণ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।

৪. লিভারের সমস্যা

নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার হওয়ার পিছনেও অতিরিক্ত মেদের হাত রয়েছে। দেহে বাড়তে থাকা মেদ না পুড়লে, তা জমতে থাকে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে। লিভারে এই মেদ জমলে, সেখান থেকে প্রয়োজনীয় উৎসেচকের ক্ষরণের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এমনটা চলতে থাকলে প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

৫. হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট

আমেরিকান লাং অ্যাসোসিয়েশন’-এর ‘এয়ারওয়েস ক্লিনিক্যাল রিসার্চ সেন্টার নেটওয়ার্ক’ হাঁপানি ও ‘ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ’ বা ‘সিওপিডি’ নিয়ে গবেষণা করে। তাদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে অতিরিক্ত ওজনের সাথে যোগ রয়েছে হাঁপানির। চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমেরিকার সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল’-এর পরিসংখ্যান বলছে, হাঁপানি নেই এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষ শতকরা ২৬.৮ জন। আর হাঁপানির রোগীদের মধ্যে এই সংখ্যা শতকরা ৩৮.৮ শতাংশ।

৬. বিষণ্ণতা

প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজন মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলে। ওবেসিটি প্রদাহ বাড়ায়, পাশাপাশি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর জেরে বিষণ্ণতা ঘিরে ধরতে পারে মানুষকে।

৭. অস্টিওআর্থারাইটিস

দেহের ওজন প্রয়োজনের তুলনায় বাড়লে চাপ পড়ে পায়ের জয়েন্টে। কারণ শরীরের সমস্ত ভার নিতে হয় পা কে। তখনই হাঁটু, নিতম্বে ব্যথা, জয়েন্টে যন্ত্রণার সমস্যা বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ওজনের জন্য অস্টিওআর্থারাইটিস হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।